ঢাকা: ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এই দেশে তো কম হত্যা হয়নি!? এমন দৃষ্টান্ত দিলে শেষ হবে না। অথচ পরে বের হয় সব মিথ্যা। ষড়যন্ত্র করে মেরে ফেলা হয়।
কারো বাক স্বাধীনতা নেই, কারো পছন্দের ব্যাপার নেই। মৌলবাদীরা যা মানে সেটা তোমাকেও মানতে হবে, না মানলে মরতে হবে।
এবারো ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে। ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলায় ওয়াহিদুজ্জামান শামিম নামে এক যুবককে পিটিয়ে তথা মব লিঞ্চিং করে খুন করা হল।
২০০ থেকে ২৫০ জন মৌলবাদী, কট্টরপন্থী মিলে এই যুবকের উপর চড়াও হয় বলে জানতে পারা গিয়েছে।
প্রথমে তাঁকে প্রচণ্ড প্রচণ্ড মারধর করা হয়। তারপর যখন গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানেও গিয়ে হামলা চালায় মৌলবাদীরা।
পুলিশ আক্রান্ত যুবককে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও, চিকিৎসা করা সম্ভব হয়নি। উন্মাদের দল হাসপাতালের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে আবার মারধর করে বলে জানা গিয়েছে। ওকে বাঁচতে দেয়া হবে না। ওদের একটাই কথা।
সেখান থেকে এই যুবককে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে শামীম মারা যান।
শামীম সম্পর্কে বেশ কিছু কথা লিখেছেন লেখক তসলিমা নাসরিন। তাঁকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন তসলিমা।
ফেসবুকে যা লিখেছেন, তা হুবহু তুলে দিলাম:
“ওয়াহিদুজ্জামান শামীম মাদ্রাসায় পড়েছেন। জামাত শিবির করেছেন ২৬ বছর।
কোরান পড়তে পড়তে অতঃপর বোধোদয় হয়েছে। ২৮ বছর কোরান পড়ার পর তাঁর চক্ষু খুলেছে। নাস্তিক হয়েছেন। মুক্তচিন্তক হয়েছেন। ইসলামের সমালোচনা তিনি জিহাদি জঙ্গিদের দেশে বসে করেছেন।
খুলনার সাতক্ষীরার দেবহাটায় বসে তিনি তার অবিশ্বাসের কথা স্পষ্ট উচ্চারণ করেছেন। প্রতিটি কথা যুক্তির কথা। প্রতিটি বাক্য সত্য।
ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে কুর্ণিশ করি।
সত্য কথা বলার জন্য জিহাদিরা তাঁকে হত্যা করেছে।
তাঁর কথা বলার অধিকারের পাশে দাঁড়াই। ধর্মে বিশ্বাস করার যেমন অধিকার আছে, ধর্মে অবিশ্বাস করারও আছে। ধর্মের প্রশংসা করার যেমন অধিকার আছে, ধর্মের সমালোচনা করারও আছে। নিজের চিন্তা প্রকাশের জন্য কাউকে প্রাণ দিতে হবে কেন?
যারা শামীমকে হত্যা করেছে, তারা তাঁর কোনও বক্তব্য খণ্ডন করেনি। একটি মানুষের শরীরের ওপর দল বেঁধে নিজেদের হিংস্রতা প্রয়োগ করেছে।
মানুষ মেরে কোনও বিশ্বাসকে সত্য প্রমাণ করা যায় না। শুধু খুনিদের হাতে রক্ত লাগে”।
অর্থাৎ শামীম হয়তো নাস্তিক ছিলেন। সেই ক্ষোভে তাঁকে মারা হয়েছে। তসলিমার সাথেও এমনটাই হয়তো হতো, যদি তিনি দেশত্যাগ না করতেন। এইকথা বহুবার বলেছেন তিনি।
শামিমের হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ২
শামীমকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এবং অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
কিন্তু দেবহাটা থানার পুলিশ এখনও পর্যন্ত মাত্র দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম মোক্তার হোসেন ও আসাদুল ইসলাম মোল্লা।
আসল মালকে এখনো গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। সে নাকি ফেসবুকে পুরো সরব। তাহলে পুলিশ কেন বের করছে না? ভাবুন?
জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে ও আজ শুক্রবার সকালে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী এখনো পলাতক। ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট দিচ্ছে।
