মেহেরপুর: মেহেরপুর শহরের লর্ড মার্কেট এলাকায় বাড়িতে ঢুকে এক তরুণীর ডান হাত কুপিয়ে কব্জির ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে।
এই ঘটনায় সায়ন নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
নারীর নিরাপত্তা ও সামাজিক অবক্ষয়ের এক চরম নৃশংস রূপ!
মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে লর্ড মার্কেট এলাকার ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সেলিম হোসেনের বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে।
শহরের মল্লিকপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সায়নকে আটক করেছে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ। তবে আটকের বিষয়টি বুধবার সকাল ১১টায় নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশ বলছে—কলেজছাত্রী ও সায়ন সম্পর্কে ‘স্বামী-স্ত্রী’।
অভিযুক্ত সায়ন শহরের মল্লিকপাড়া এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী আবু তালেবের ছেলে।
এদিকে, মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ওই তরুণীর বাবা ও মাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে।
আহতরা হলেন—কলেজছাত্রীর বাবার লর্ড মার্কেট এলাকার ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সেলিম হোসেন, তার স্ত্রী রেবেকা খাতুন এবং তাদের মেয়ে স্মৃতি আক্তার।
নৃশংস হামলায় স্মৃতি আক্তারের ডান হাত কবজির ওপর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে অবস্থার আরো অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে—কলেজছাত্রী এবং সায়ন সম্পর্কে ‘স্বামী-স্ত্রী’।
স্ত্রী হলেই তাঁকে মারার অধিকার কে দিয়েছে?
সামাজিক অপরাধ ও বখাটেদের উপদ্রব যে কোন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, এটি তার এক নির্মম ও হৃদয়বিদারক উদাহরণ।
তবে কেউ কেউ বলছেন, প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার জন্য কলেজছাত্রীর বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে তাকে পাশবিকভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে এবং তার হাত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার মতো ভয়ানক ঘটনা ঘটেছে। তারা স্বামী স্ত্রী নন। সঠিক কী তা জানা যায়নি। তবে অপরাধটা তো সঠিক। তা প্রেমিকার ওপরেই হোক, আর স্ত্রীর ওপর।
এই নৃশংসতা পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
সমাজে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
