ঢাকা: নায়ক মান্নার লাল রংয়ের গাড়ীটি দিয়ে অনেক ছবির শুটিং হয়েছে। মান্না নেই প্রায় ১৮ বছর হয়ে গেল।
সেই গাড়িটি মেরামত করতে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় দুইজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্নার স্মৃতিবিজড়িত গাড়িটি মেরামতের সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৯০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা দুজনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াউর রহমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালত এই আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো দুইজন হলেন মান্নার পরিবারের ম্যানেজার মো. মামুন মণ্ডল (২৯) এবং গাড়ির টেকনিশিয়ান মো. সোহেল পাটওয়ারী (৩৭)।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম বলেন, গাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। সেটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়ার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই আগুন লাগে। আসামিদের একজন গাড়ির মালিকের পরিবারের ম্যানেজার, অন্যজন টেকনিশিয়ান।
তারা ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়েছেন, এমন অভিযোগ সঠিক নয়।
আসামিদের জামিন আবেদনের শুনানির জন্য বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিন ধার্য রয়েছে বলে জানান তিনি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাড়ির নিচে গাড়ি পার্কিংয়ের গ্যারেজ রয়েছে। ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া সেলির (চিত্রনায়ক মান্নার স্ত্রী) ঢাকা মেট্রো-গ-১৫-০৭৭৫ নম্বরের একটি প্রাইভেটকার দীর্ঘদিন ধরে গ্যারেজে পড়ে ছিল।
গাড়িটির নিচে তেলের চিহ্ন দেখতে পেয়ে সেটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য বাড়ির কর্তৃপক্ষ গাড়ির মালিককে অনুরোধ করে।
এরপর গাড়িটি গ্যারেজ থেকে বের করে ওয়ার্কশপে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিবারের ম্যানেজার মামুনকে নির্দেশ দেন মালিক। এরপরেই গত ২৬ অক্টোবর মামুন ও সোহেল গাড়িটি মেরামত করতে গ্যারেজে আসেন।
বাড়ির ম্যানেজার তাদের গ্যারেজের বাইরে গিয়ে কাজ করার কথা বললেও তারা ভেতরেই মেরামতের কাজ শুরু করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এদিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে গাড়িটিতে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। এতে গাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
এই আগুনে পাশের আরেকটি প্রাইভেটকারের ক্ষতি হয়। এ ছাড়াও গ্যারেজ, বিদ্যুতের তার, সিসিটিভি ক্যামেরা, গেটের শাটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পুড়ে যায় বলা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৯০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এহেন উদ্ভট ঘটনায় বাড়ির ম্যানেজার মো. গাজী মানিক মিয়া ভাটারা থানায় অভিযোগ করেন।
