ঢাকা: হিন্দুরা টার্গেট। এখন মনে হচ্ছে হিন্দু শিক্ষকদের টার্গেট করা হয়েছে।

রংপুরের পর ঢাকার কলাবাগানে নটরডেম কলেজের সাবেক শিক্ষক ধীরেন্দ্র কুমার রায়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে! কী শুরু হয়েছে দেশে এইসব?

জনাব তারেক রহমান, রংপুরের গণপতি চক্রবর্তীর পরিবার তো শেষ, ঘটনার নানান ফাঁকফোকর দেখা যাচ্ছে, খুব সম্ভবত আসল খুনীকে বাঁচানোর তীব্র চেষ্টা চলছে।

সারা দেশ শোকার্ত গণপতি বাবুদের পরিবারের সাথে ঘটে যাওয়া নিদারুণ ঘটনায়, এই আর্তনাদ তারেক সাহেবের কানে যাচ্ছে না, নাকি ইচ্ছা করে শুনছেন না?

সারা বাংলাদেশের হিন্দুদের বুকফাটা কান্না কি তারেকের কাছে কোনো মূল্যই রাখে না?

সাধারণ মানুষ কিছু করতে পারবে না, কিন্তু ভিতরের দীর্ঘশ্বাস? সেটায় কোনো অন্যায়কারী পার পায় না।

ক্ষমতার জোর দেখিয়ে, চুপ থেকে বা চোখ বন্ধ করে থাকলে সত্য লুকানো যায় না।

এই নীরবতা কেন? একটা হিন্দু পরিবারের উপর এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটল, অথচ সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো কথা নেই এটা কি দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া না কি অন্য কিছু?

রাজধানীর কলাবাগানে নিজের বাড়ি থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় নটরডেম কলেজের সাবেক শিক্ষক ধীরেন্দ্র কুমার রায়ের (৭১) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশের ধারণা, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। চক্রবর্তী পরিবারের খুন যেমন ইয়াবা দিয়ে ঢেকে দিয়েছে, তেমনি এটাকেও আত্মহত্যা বলে চালাচ্ছে।

সোমবার সকাল ৯টা ১৫র দিকে গ্রিন রোডের ১৮৮ নম্বর বাড়ি থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক আতিকুর রহমান জানান, ধীরেন্দ্র কুমার রায় বাসার একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন। তাঁর মেয়ে বাবাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

পুলিশের কথাও এখন জনগণ বিশ্বাস করে না। করার জায়গাও নেই।

ধীরেন্দ্র রায়কে উদ্ধার করে গ্রিন লাইফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক সকাল সোয়া ৯টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ সকাল সোয়া ১০টার দিকে হাসপাতাল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, ধীরেন্দ্র কুমার রায়ের স্ত্রী দীপালী রায় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। সোমবার সকালে তিনি কর্মস্থলে চলে যান। এ সময় তাঁদের মেয়ে বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে ঘুম থেকে উঠে নাকি বাবাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি।

এখন পুলিশ বলছে, তাঁর নাকি মানসিক সমস্যা ছিলো। হ্যাঁ, দেশের সব হিন্দুরাই মানসিক রোগী। বলে দেবে কোনো একদিন। খুন হলে বলবে মানসিক রোগী! আর কী? কে প্রতিবাদ করবে?

হিন্দুরা বলছে, এই আর্তনাদ কোনোদিন বিফলে যাবে না। এর জবাব একদিন তারেক রহমানকে দিতেই হবে। শুধু একজন নয়, যারা এই অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত সবাইকেই জবাব দিতে হবে।

হিন্দুরা এবং দেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষরা বলছেন, “একাত্তরে অন্যায় হয়েছে আর যেন না হয়, সেটাই আমরা এবার দেখবো”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *