ঢাকা: জনগণ, এই দেশের জনগণ যারা প্রতিদিন ঘর থেকে বের হয়, পরিবারের মুখে দুবেলা দুমুঠো ভাত তুলে দেয়ার জন্য তারা সবচেয়ে ভালো বুঝবে এই দেশে মানবাধিকার কতটুকু লঙ্ঘিত?

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে যে পরিমাণ মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে তার নজির গাজার পর বিশ্বের আর কোথাও নাই!

অথচ নেতামন্ত্রীরা বলছেন দেশে নাকি মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়নি!

দেশে সংখ্যালঘু, সাধারণ অন্যান্য জনতা, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতি চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। তারপরেও এরা এত মিথ্যা বলে কী করে?

কারো কোনো দলের পক্ষ নেয়ার দরকার নেই, সাদা চোখেই দেখা যাচ্ছে দেশে কী ঘটছে!?

মব ভায়োলেন্স, হত্যা, ধর্ষণ, নিরপরাধীদের কারাগার, সাংবাদিকদের হাজতে পুড়ে রাখা এগুলো মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়?

ওরা দেখছে দেশে মানবাধিকার উন্নয়ন।

আওয়ামী যুবলীগের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালায়, যদিও তার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল না।

এরকম একটা নয়, হাজার হাজার ঘটছে।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তাকে বাড়িতে না পেয়ে পুলিশ তার বাবাকে তার পরিবর্তে গ্রেপ্তার করে।

তারেক রহমানের সরকার ক্রমাগত রাষ্ট্রকে আরও বেশি দমনমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করছে।

বাংলাদেশে এ ধরনের নেক্কারজনক মানবাধিকার লঙ্ঘন এখন স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হচ্ছে।

শুধুমাত্র ফ্যাসিস্ট শাসনই ক্রমাগত রাষ্ট্রকে আরও বেশি দমনমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে, যা আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি।

তাহলে, এখন ফ্যাসিস্ট কে?

অথচ… স্পিকার যা বললেন তাতে রোবোট হয়ে যাবে মানুষ।

বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছে বলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বিশ্ব আন্তপার্লামেন্টারি ইউনিয়নে যে অভিযোগ করেছিল, তদন্ত শেষে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

অর্থাৎ দেশ খুব ভালো আছে, মানবাধিকার মই বেয়ে উপরে উঠছে।

তানজানিয়ায় বিশ্ব আন্তপার্লামেন্টারি ইউনিয়নের একটি কনভেনশন থেকে ফিরে রবিবার (১১ অক্টোবর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে সংবাদিকদের তিনি এই অত্যাশ্চর্য কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, গত এপ্রিলে ইস্তাম্বুলে বিশ্ব আন্তপার্লামেন্টারি ইউনিয়নের ১৫২তম অধিবেশন হয়। সেখানে যাওয়ার পর পতিত আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বাংলাদেশে তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে।

তাদের সেই অভিযোগের তদন্ত করার জন্য বিশ্ব আন্তপার্লামেন্টারি ইউনিয়নের সদস্যরা ঢাকা আসেন তদন্ত করেন। তারা তদন্ত করে দেখেছে আওয়ামী লীগের অভিযোগ মিথ্যা। কালো তালিকা থেকে বাংলাদেশের নাম সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্ব আন্তপার্লামেন্টারি ইউনিয়নের সদস্যরা বাংলাদেশের জনগণের ১৭ বছরের সংগ্রামের কাহিনী শুনেছেন। তারা মর্মাহত হয়েছেন।

স্পিকার জানান, বিশ্ব আন্তপার্লামেন্টারি ইউনিয়নের এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের স্পিকার এক বছরের জন্য এর সভাপতি থাকবেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বাস্তব পরিস্থিতি আমি সেখানে তুলে ধরেছি। গত ১৬ বছর বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে তা তুলে ধরেছি। গণতন্ত্রের জন্য বাংলাদেশের জনগণের সংগ্রাম বিশ্ববাসীকে অভীভূত করেছে। প্রতিত সরকারের তৈরি করা ভুল ধারণা কেটে গেছে।

স্পিকার বলেন, তানজানিয়ায় ৫-৯ অক্টোবর বিশ্ব আন্তপার্লামেন্টারি ইউনিয়নের কনভেনশন ছিল। সেখানে বাংলাদেশ থেকে আমিসহ ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল যায়। এই অধিবেশনে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যান্য দেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

এই কনভেনশনে আমরা অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, বাহরাইন, ভুটান কানাডা ও তুরস্কের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সংলাপ করেছি। হিউম্যান রাইটস কমিশনের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে। নানা গ্রুপের সঙ্গে সংলাপ করে বাংলাদেশ সাফল্য অর্জন করেছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *