গাইবান্ধা: গাইবান্ধা, মেহেরপুর, রংপুর, দিনাজপুর ও কুষ্টিয়ার কয়েকটি উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
অ্যানথ্রাক্স মানুষের ত্বকে, গলার ভেতরে এবং পাকস্থলীতে দেখা দেয়। যদিও এটি কিন্তু ত্বকেই বেশি দেখা দেয়। আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বকে চুলকানিযুক্ত লাল ফুসকুড়ি দেখা দেয়, ফুসকুড়ি একপর্যায়ে ফোসকায় পরিণত হয়।
দ্রুত যদি রোগ শনাক্ত না হয়, চিকিৎসা না হলে অ্যানথ্রাক্সে মানুষের মৃত্যু হতে পারে।
দেশের কয়েকটি জেলায় ইতিমধ্যে অ্যানথ্রাক্স ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, মেহেরপুরের গাংনী, রংপুরের পীরগাছা, দিনাজপুরের পার্বতীপুর এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আক্রান্তের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও আইইডিসিআর এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে।
৯ সেপ্টেম্বর একটি অসুস্থ গরু জবাই করে বেশ কিছু পরিবারের মধ্যে মাংস ভাগ করে দেওয়ার পর আক্রান্তের সংখ্যা আরো বাড়ে।
মঙ্গলবার উপজেলা হাসপাতালে ৩১ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর আগেও আগস্টে একই এলাকায় অসুস্থ গরুর মাংস থেকে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নতুন করে আবারও ৩ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স (তড়কা) শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার তাঁরা হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেন।
নতুন করে আক্রান্ত ৩ ব্যক্তি হলেন উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম বাছোহাটী গ্রামের মো. শহিদুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. শাহিনুর বেগম (৩৫), মৃত ছরিতুল্লাহর ছেলে মো. আনছার আলী (৬৪) ও মো. আমির উদ্দীনের ছেলে মো. জবেদ আলী (৪৫)।
এই নিয়ে উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে।
এই তিনজন ছাড়া অন্য ৩১ জন হলেন মো. জয়নাল আবেদিন (৪০), মোছা. গোলেজা বেগম (৪০), মোছা. নুর আকাইদ (৬), মোছা. রুমি আক্তার (২৯), মোছা. রাশিদা বেগম (৫০), মো. সুলতান মিয়া (২৫), মোছা. রাহেলা বেগম (৫০), মোছা. শরিতন বেগম (৫০), মোছা. দোলেনা বেগম (৩৫), মো. জয়নাল মিয়া (৬০), মোছা. ফেন্সি আক্তার (১৮), মোছা. ফুলমতি বেগম (৪৫), মোছা. রাবেয়া বেগম (৪৫), মোছা. আজমিন বেগম (২৫), মোছা. ফাহিমা বেগম (৪৫), মো. শফিক আলম (৪৫), মো. শফিয়াল মিয়া (৪৫), মো. আবদুর রশিদ মিয়া (৪০), মো. চাদ মিয়া (৫৮), মো. আবদুল জলিল মিয়া (৬০), মোছা. লাবনী আক্তার (৩৫), মোছা. রেশমা বেগম (৪৫), মো. আবদুল মজিদ মিয়া (৪৫), মো. মেসকিনা বেগম (৩৫), মোছা. আশা মনি (১৮), মো. জরিফ মিয়া (১৪), মো. নিয়ামুল মিয়া (৭), মো. হায়দার আলী (৩৭), মো. আদিল মিয়া (৪), মোছা. আনিনা বেগম (২৪) ও মোছা. লাকি বেগম (৩৯)।
মেহেরপুরের গাংনীতে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মিলিয়ে ৫৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরেও দুই মাস আগে প্রায় ১৫ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
জানা গিয়েছে, অ্যানথ্রাক্স আক্রান্তদের বেশির ভাগই অসুস্থ পশুর মাংস কাটাকাটি বা সংস্পর্শে এসেছিলেন।
জানা প্রয়োজন:
অ্যানথ্রাক্স এক ধরনের ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, বর্তমান সময়ে এটি বিভিন্ন মানুষের শরীরে ভয়ানক আকারে দেখা যাচ্ছে।
যা সাধারণত গবাদিপশু (গরু, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি) থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। এটি ত্বক, ফুসফুস বা পরিপাকতন্ত্রে আক্রমণ করতে পারে।
ত্বকে সংক্রমণ হলে কালচে ক্ষত, ফুলে যাওয়া ও ব্যথা দেখা দেয়—যা দ্রুত চিকিৎসা না করলে বিপজ্জনক হতে পারে।
কী করবেন –
✓ অসুস্থ বা মৃত প্রাণীর চামড়া, মাংস বা রক্তের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
✓ পশু জবাই, চামড়া প্রক্রিয়াকরণ বা মাংস কাটার সময় দস্তানা ও সুরক্ষা ব্যবহার করুন।
✓গবাদিপশুকে নিয়মিত টিকা দিন— বিশেষ করে যেখানে অ্যানথ্রাক্সের ইতিহাস আছে।
✓আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষত ঢেকে রাখুন এবং অন্যকে ছোঁয়া থেকে বিরত থাকুন।
✓জ্বর, কালচে ক্ষত, ফুলে যাওয়া বা ব্যথা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
✓আক্রান্ত পশুর মাংস কখনো খাবেন না, এবং মৃত প্রাণী পুড়িয়ে ফেলুন বা গভীরে পুঁতে ফেলুন।
