ঢাকা: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে আসন্ন টেস্ট সিরিজের ঠিক আগমুহূর্তে আশরাফুলকে ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দৌড়গোড়ায় এসেই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
তাঁর জায়গায় অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পেয়েছেন হাই পারফরম্যান্স বিভাগের কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।
আশরাফুলের আগে বাংলাদেশ দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেছেন সালাহউদ্দিন।
বিষয়টা নিয়ে আলোচনা সমালোচনা চলছে স্বাভাবিকভাবেই।
সিরিজ শুরুর আগে এমন সিদ্ধান্ত কেন নিতে হবে? প্রশ্ন ক্রিকেটপ্রেমীদের।
তাঁরা এও বলছেন,” দল খারাপ করছে। হারার কারণ ব্যাটারদের ব্যর্থতা। এখানে কোচকে কাঠগড়ায় তোলার সুযোগ আছে। তাকে বাদও দিতে পারে বিসিবি। তবে দরজায় যখন কড়া নাড়ছে আরেকটা আন্তর্জাতিক সিরিজ, ঠিক সে মুহূর্তেই কেন?
আর এই অল্প সময়ের মধ্যে সালাউদ্দিনই বা কি এমন পরিবর্তন এনে দেবেন যে, ব্যাটাররা বদলে যাবেন? ব্যর্থতার খোলস থেকে বেরিয়ে রানের বন্যা বইয়ে দেবেন”?
শনিবার সকালেও মিরপুর একাডেমি মাঠে ব্যাটারদের নিয়ে কাজ করছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। আর আচমকা সন্ধ্যা নামতেই জানা গেল, তিনি আর জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ নন!
দেশবাসী যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। শুধু কোচ বদলানোর এই সংস্কৃতির বাইরে বেরিয়ে ব্যর্থতার আসল কারণগুলো নিয়ে ভাবার সময় কি আসেনি?
এবার আবারও ব্যাটিং কোচের ভূমিকায় ফিরছেন সালাহউদ্দিন। তবে এই দায়িত্বে তার মেয়াদ আপাতত ‘অস্থায়ী’।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে মোহাম্মদ আশরাফুলের নাম বিশেষভাবে স্মরণীয়।
মাত্র ২০ বছর বয়সে ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি।
এবং আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে ১৭৭ ম্যাচ খেলে ৩ হাজার ৪৬৮ রান করেছেন আশরাফুল। বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকদের তালিকায় তাঁর অবস্থান পঞ্চম।
এদিকে, ৬১টি টেস্ট খেলেছেন তিনি। টেস্টে সেঞ্চুরি করা সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটারও ছিলেন আশরাফুল। এ ছাড়াও বাংলাদেশের হয়ে ২৩টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি।
আশরাফুলকে সরিয়ে দেয়ার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানায়নি বোর্ড।
