গাজীপুর: পোশাক শ্রমিকরা তাদের পাওনা নিয়ে আন্দোলন করছেন, কিন্তু এই এই আন্দোলনের আড়ালে রাজাকারগোষ্ঠী নিজেদের কার্যসিদ্ধি করছে এবং দেশকে আবার জুলাই আগষ্টের মতো অস্থিতিশীল করে তুলেছে। অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাচ্ছে। যার মাশুল পরে কিন্তু সাধারণ মানুষকেই দিতে হবে।

২০২৪, ৫ আগস্টের পর হাজার হাজার কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। শ্রমিকরা কীভাবে নিজেদের সংসার চালাচ্ছেন, সে খবর কোনো নেতা মন্ত্রী কী নিয়েছেন? অথচ এখন আবার প্রায় ৮০ র কাছাকাছি কারাখানা বন্ধ করা হয়েছে! এভাবে একটা দেশ চলতে পারে?

গাজীপুরের ৮০ টি কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে সরকার।সাভার ও আশুলিয়ার প্রায় ৫০ টি কারখানা বন্ধ করা হয়েছে।সব মিলিয়ে শ্রমিক অসন্তোষে উত্তাল রাজধানী ঢাকা।

দেশ চালাতে সম্পূর্ণ হিমশিম খাচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত সরকার।

গত ৫ আগষ্টের পর থেকে দেশের শিল্প কারখানা ধ্বংস করে দিয়ে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দিয়েছে। পোশাক কারখানা শেষ , ওষুধ কারখানা শেষ! বাকি আছে শুধু বিএনপি ও জামায়াতের ক্ষমতার গদি।

বিএনপি ও জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পর থেকেই শ্রমিকদের মাঝে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভয়াবহ খারাপ। শ্রমিকের পেটে ভাত নেই , মজুরির নিশ্চয়তা নেই , এবং একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের মেরুদন্ড বলে খ্যাত এক একটি শিল্পকারখানা । কিন্তু এইভাবে আর কতদিন? প্রশ্ন!

বিএনপি ও জামায়াত ৫ আগষ্ট বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পর থেকেই শুধু বাংলাদেশের উৎপাদন খাতে ক্ষতি হয়েছে ৭,৪০০ কোটি টাকা।

নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় ৯৫ টি পোশাক কারখানা চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। বিএনপি ও জামায়াত সরকারের প্রথম ছয় মাসে নতুন করে চাকরি হারিয়েছে আরও ২০ হাজার শ্রমিক। গত তিন বছরে প্রায় দুই লক্ষাধিক শ্রমিকের চাকরি নেই। এটাই কি নতুন বাংলাদেশ ?

সন্তানকে বাঁচাতে দৌড়ে পালাচ্ছেন মা। পোশাক শ্রমিককে রাস্তায় রক্তাক্ত করে ফেলে রেখে গেছে পুলিশ। জ্বলছে গাজীপুর শিল্পাঞ্চল।

বাংলাদেশের মানুষ শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলন করতে গিয়ে গুপ্ত শিবিরের ফাঁদে পা দিয়ে আজ নিজেদের শেষ সম্বল পর্যন্ত হারাতে বসেছে। ইতিমধ্যে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক বেকার হয়ে পথে বসে গেছে ‌। হারিয়েছে সর্বস্ব।

ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ইচ্ছেমতো শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করা এবং শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠে সাভারের আশুলিয়া ও গাজীপুরের কালিয়াকৈর শিল্পাঞ্চল।

রবিবার সকালের দিকে কারখানাগুলোতে কাজ স্বাভাবিক থাকলেও দুপুরের পর থেকে চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আন্দোলনরত শ্রমিকেরা রাজপথে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ, পিকআপ ভ্যান ও কারখানার ঝুট গুদামে অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় জড়িয়ে পড়েন।

নরসিংহপুরের শারমিন গ্রুপ, হা-মীম গ্রুপ, নিউএইজ ও অনন্ত গার্মেন্টসসহ আশপাশের প্রায় ৫০টি কারখানায় পর্যায়ক্রমে ছুটি ঘোষণা করা হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *