ঢাকা: এতদিন ধরে নারী বিভাগে খেলে আসছিলেন, অথচ তাঁরা নাকি পুরুষ!

শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কত হলে একজন অ্যাথলেট নারী শ্রেণিতে প্রতিযোগিতার অধিকার হারান? বিষয়টি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের দীর্ঘদিনের বিতর্ক।

যাই হোক একটি সিদ্ধান্ত এসেছে, সেই সিদ্ধান্তে জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়কে নারীদের প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

দুজনের শরীরে যে হরমোনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, তা সাধারণ নারীদের তুলনায় অনেক বেশি। এ মাত্রা যাদের শরীরে থাকে, তাদের নারী নয়, চিকিৎসা শাস্ত্র পুরুষ হিসেবে নির্দেশ করে। অর্থাৎ বলা হচ্ছে তাঁরা পুরুষ।

এটি নিশ্চিত হওয়ার পর দুই ক্রীড়াবিদকে নারীদের সব কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁদের অর্জন করা সব পদকও বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জান্নাত বেগম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাথলেট, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হয়ে খেলতেন কবিতা রায়।

তাঁদের লিঙ্গ নির্ধারণসংক্রান্ত ইস্যুতে বিতর্ক চলছে অনেকদিন ধরেই। এ বিষয়ে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার অনুরোধ জানানো হয়। সেই পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে একটি ৫ (পাঁচ) সদস্য বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করে অ্যাথলেটদের শারীরিক পরীক্ষার কাজ শুরু করে।

এবং গত ১১ মে, ২০২৬ তারিখে শেষ হয় এবং মেডিকেল বোর্ড গত ০৮ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ফেডারেশনের নিকট হস্তান্তরের মাধ্যমে মতামত প্রকাশ করে।

মেডিকেল বোর্ডের চূড়ান্ত ফলাফল:

মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী অ্যাথলেট জান্নাত বেগম (বয়স: ২৮ বছর) এবং কবিতা রায় (বয়স: ১৯ বছর)-এর হরমোন ও শারীরিক পরীক্ষায় 46, XY DSD (Differences of Se**x Development) ধরা পড়েছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী তাদের পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করে।

বিজ্ঞ বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী দুইজন অ্যাথলেটের পেনোস্ক্রোটাল হাইপোস্পেডিয়াস (Penoscrotal Hypospadias) রয়েছে এবং উভয় গোনাড (জ**ননগ্রন্থি) ইনগুইনাল ক্যানেলে অবস্থিত।

রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রার ক্ষেত্রে দেখা যায়:

• জান্নাত বেগম: টেস্টোস্টেরনের মাত্রা 19.66 nmol/L, যা ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্সের নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা (2.5 nmol/L) অপেক্ষা প্রায় ৮ গুণ বেশি।

• কবিতা রায়: টেস্টোস্টেরনের মাত্রা 16.50 nmol/L, যা নির্ধারিত সীমা (2.5 nmol/L) অপেক্ষা সাড়ে ৬ গুণের বেশি।

ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্সের বিধিমালা: ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্স-এর DSD বিধিমালা (সংস্করণ ৩.০, ৩১ মার্চ ২০২৩ থেকে কার্যকর) অনুযায়ী, নারী বিভাগে অংশগ্রহণের জন্য অ্যাথলেটের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ২৪ মাস ধরে ২.৫ nmol/L-এর নিচে থাকা বাধ্যতামূলক। এবং দেখা গেছে, দুই অ্যাথলেটই এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন।

এই ঘটনাটি মর্মান্তিক হলেও বাস্তব।

জ্যাভলিন থ্রো ও ডিসকাস থ্রো ইভেন্টে দুটি নতুন জাতীয় রেকর্ডসহ ৮টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন জান্নাত বেগম।

এবং অন্যদিকে ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪×১০০ মিটার রিলে ইভেন্টে ১টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক জেতেন কবিতা রায়।

শনিবার অনুষ্ঠিত ফেডারেশনের সভায় তাদের এখন পর্যন্ত অর্জিত সমস্ত পদক বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ফেডারেশন জানায়, চিকিৎসাশাস্ত্র ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী পুরুষ বিবেচিত হওয়ায় ফেডারেশন তাদের নারী বিভাগে প্রতিযোগিতা থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে।

একই সঙ্গে তাদের জেতা প্রতিটি ইভেন্টে দ্বিতীয় স্থান অধিকারীদের স্বর্ণপদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *