মিরপুর: মিরপুরের শাহ আলীর মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আবারও আঘাত করা হলো একদল নিরীহ দরবেশ, ফকির, সাধক ও সুফি চর্চাকারীদের ওপর।

এই দৃশ্য নতুন নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক মাজারে হামলা হয়েছে, পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে আস্তানা, অপমান করা হয়েছে আধ্যাত্মিক সাধনাকে, এমনকি হত্যা পর্যন্ত করা হয়েছে নিরীহ পাগল-ফকিরদের, কবর থেকে উঠিয়ে পোড়ানো হয়েছে! এখনো একটা ঘটনার বিচার হয়েছে?

এই ধারাবাহিক সহিংসতার বিচার কোথায়?
রাষ্ট্র কি সত্যিই অন্ধ? নাকি নীরব সম্মতির আড়ালে চলছে এক ভয়ংকর পরিকল্পনা?

জঙ্গী ইউনূসের আমলে হয়েছে, এখন বিএনপির আমলেও ঘটছে এই ধরনের ঘটনা।

মাজারে হামলা বা ভাঙার দিনকাল শেষ হয়নি৷ শাহ আলীর মাজারে হামলা হলো। একেবারে ঢাকার বুকে। বইয়ের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ এবং মাজার হামলা এগুলো সব একসূত্রে গাঁথা।

পুলিশ জানে; প্রশাসন জানে; এমপি, মন্ত্রী— সবাই জানেন। তবুও প্রতিবারই হামলাকারীরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।

তাই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে—
এই নীরবতা কি শুধুই ব্যর্থতা, নাকি এর পেছনে আছে রাষ্ট্রীয় প্রশ্রয় ও মদদ?

বিএনপি যদি সত্যিই মাজারে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিত, তাহলে তারা কঠোর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করত।

বিএনপির এই নিষ্ক্রিয়তা প্রমাণ করে যে তথাকথিত মধ্যপন্থী দলটি মাজারে হামলার বিরোধী নয়, বরং পরোক্ষভাবে হামলাকারীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে।

রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী বোগদাদীর মাজারে ওরশ চলাকালে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা পুলিশ ও জামায়াতের পক্ষ থেকে একে অন্যকে দায়ী করে বক্তব্য পাওয়া গেছে।

তবে এ যে জামাত শিবির ছাড়া আর কারো কাছ নয়, সেটা সারা দেশ জানে।

বৃহস্পতিবার রাতে ওই হামলার শিকার জিয়ারতকারী কয়েকজন বলেছেন, হামলাকারীরা ‘জামায়াত-শিবিরের’ লোক।

এদিকে, পিঠ বাঁচাতে ওই এলাকায় জামায়াত থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম (ব্যারিস্টার আরমান) দাবি করেছেন, সেখানে তার দলের কোনো লোক ছিল না, যা ঘটেছে তা ‘পুলিশের মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডের’ অংশ।

সব তো বলে দিলেই হয় না। জামাত শিবির এর আগেও কী কাণ্ড ঘটিয়েছে তা আমরা জানি।

ঘটনায় দারুস সালাম জোনের সহকারী কমিশনার ইমদাদ হোসেন বিপুল বলেন, “মাজারে আমরা অভিযান চালাইনি। রাতে যেটা দেখলাম যে জামায়াত-শিবিরের পোলাপান মনে হয় ব্যক্তিগত উদ্যোগে অভিযান চালিয়েছে। গত সপ্তাহে বিএনপি থেকে মিরাজ যেমন নিজ উদ্যেগে অভিযান চালিয়েছিল কালকে মনে হয় জামায়াত শিবির নিজ উদ্যোগে অভিযান চালিয়েছে। এখানে পুলিশের কোনো ইনভল্ভমেন্ট নেই।”

পুলিশ সেখানে গিয়েছিল কি না সাংবাদিকদের এই প্রশ্নে তিনি বলেন, “না না না, একটা পলিটিক্যাল পার্টির সাথে আমরা কীভাবে অভিযান করব!”

সহকারী কমিশনার বিপুল বলেন, “অভিযান করেছে তারাই (জামাত-শিবির), আমরা ভেতরে ঢুকিনি”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *