ঢাকা: রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল যেখানে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, সেখানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়।

শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় এ ঘটনায় কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন এবং একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর। এবং সাথে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার আসল রূপটা তিনি উন্মোচন করেছেন।

তিনি ফেসবুকে প্রতিবাদের ভাষায় লিখেছেন, “ছয় শিশুকে হত্যাকারী ‘আদ-দ্বীন হাসপাতাল’ কর্তৃপক্ষের ভাড়াটে গুন্ডাবাহিনী যেভাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মাস্তানি চালিয়েছে, তাতে মনে হয় এরাই এখন সমান্তরাল রাষ্ট্র চালাচ্ছে।

হাসপাতালে কেন এসির কারণে শিশু মারা যাবে? বেকারি থাকবে!

ধর্মীয় খোলসধারী এই হাসপাতালগুলো মূলত এক একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণার কারখানা। চিকিৎসা সেবার নামে এদের উদাসীনতার অভিজ্ঞতা আমার নিজেরও রয়েছে।

গভীর রাতে তীব্র অসুস্থতা নিয়ে ধানমন্ডির ‘ইবনে সিনা হাসপাতালে’ গিয়ে ন্যূনতম সেলাই বা প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য কোনো চিকিৎসক পাওয়া যায়নি- যা আমি প্রকাশ করেছি বছর দুয়েক আগে। সংবাদ হয়েছে।

পাঁচ বছর আগে কম খরচের বিজ্ঞাপনে প্রলোভিত হয়ে মগবাজারের ‘আল বারাকা হাসপাতালে’ পিত্তথলির পাথর অপসারণ করতে গিয়েছিলাম।

সেখানে নাভির বাড়তি সাধারণ সেলাইয়ের অজুহাতে আমার কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় এক হুজুর লেবাসধারী চিকিৎসক।

সেই ত্রুটিপূর্ণ সেলাই শুকাতে সময় লেগেছিল দীর্ঘ দুই মাস এবং বুকে স্থায়ী কালো দাগ তৈরি করেছে, অথচ এই ধরনের অপারেশনে দাগ চলে যাওয়ার কথা কয়েক মাসের মধ্যে।

বাণিজ্যিক ধূর্ততা এখানেই শেষ নয়; অপারেশনের পূর্বে ওই চিকিৎসক আমাকে হাজার/ বারোশো টাকার ‘হাদিয়া’র বিনিময়ে একটি অনুবাদকৃত কোরআন শরিফ গছিয়ে দেন।

পরবর্তীতে বাসায় এনে পড়তে গিয়ে দেখি, সেটি ত্রুটিপূর্ণ- ভেতরে পাতা ওলটপালট এবং মূল একটি পাতা গায়েব।

হাসপাতালটির থাকার রুমের পরিবেশ ফালতু রকমের ছিল। মানসম্মত খাবার তো দূরের কথা, তাদের ক্যান্টিনের অবস্থাও ছিল ফালতু।

হাসপাতালটির বিরক্তিকর কাজ চিকিৎসা শেষেও থামেনি; ওই হাসপাতালের এক চিকিৎসক নিয়মিত আমার ফোনে জমি ও প্লট কেনাবেচার বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন পাঠিয়ে চলছেন।

চিকিৎসা একটি নিরেট বিজ্ঞান ও মানবিক সেবা, এর সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। পবিত্র ধর্মীয় লেবাস ও নাম ধারণ করে যারা এই অধর্ম ও নির্মমতার ব্যবসা ফেঁদে বসেছে- তারাই এই সভ্য দুনিয়ার নিকৃষ্টতম প্রতারক”।

এদিকে, আদ দ্বীন হাসপাতালটির পোস্ট ডেলিভারি অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্তের অংশ হিসেবে শনিবার সেখানে পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের একটি ভবনে অবৈধভাবে বেকারি পরিচালনা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখতে পেয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে একটি বেকারি পাওয়া গেছে। দুটি ইলেকট্রিক ওভেন দিয়ে এই বেকারি চলে। কোনও ইঞ্জিনিয়ার নেই। এটা উচিত হয়নি। প্রচুর ময়লা পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল ত্যাগ করার পরপরই হাসপাতালের প্রবেশমুখগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এবং সাংবাদিকরা ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। মারধর করা হয়।

হাসপাতালের স্টাফ নার্স, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া করা হয় এবং বিভিন্ন শক্ত বস্তু নিক্ষেপ করা হয়। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন।

জানা গেছে, হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন টাইমস অব বাংলাদেশ-এর স্টাফ রিপোর্টার কাজী জাহিদ এবং দীপ্ত টিভির একজন ক্যামেরাপারসন। এবং বৈশাখী টিভির একটি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা তৈরি হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *