ঢাকা: আজকাল মাঝে মাঝে বিএনপি বাধ্য হয়েই জামাতের বিরুদ্ধে বলে। ছন্নছাড়া বিএনপি’র এখন মাথা নষ্ট- দিশাহীন একটি দল। ডাবল স্ট্যান্ডার্ড দেখানো একটি দল। যাদের নিজেদের কোনো আদর্শ বলতে কিছু নেই।
আর জামাত তো আছেই, রাজাকার, পাকিস্তানি! সরকারের ঘাড়ে উঠে চলছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অশ্লীল আচরণ করেছেন জামাতি নেতা আখতারুজ্জামান।
লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে উগ্র আচরণ দেখিয়েছেন। সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আখতারুজ্জামান যা করেছেন সেই ঘটনাকে ‘মব’ বলে উল্লেখ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বিমানমন্ত্রী এই কথা বলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে তো ভোগান্তি ছিলই। আমরা ১৫ বছরের ভোগান্তিতে ছিলাম। পানিটা (জমজমের পানি) সব শেষের দিকে থাকে। এটা লিকুইড ফর্মে যেটা থাকে আর কি, হেজার্ডাস জন—এগুলিকে শেষে দেওয়া হয়। আমরাও অনেক সময় দেখেছি যে আমরা লাগেজে তো ৪০ মিনিটের মধ্যে পেয়ে গেছি। বসে আছি, শেষে একদম সব শেষ করে পানিটা আনা হয়। তো হজ করে এসে একটু ধৈর্য ধরা লাগে আর কি।”
তিনি বলেন, “সেই ধৈর্যটা যদি কারো না থাকে, আর যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ বিশৃঙ্খলা করতে চায়, তাহলে তো এটা কালকে পরিলক্ষিত হয়েছে, আমিও দেখেছি। এটা একটা গ্রুপ, যারা সরকারের এই স্বস্তি দেখতে চায় না, অস্থির করতে চায় সরকারকে। এবং সরকারের যে ইচ্ছা আছে যে সুন্দর, সাবলীলভাবে সবকিছু চলুক, সেগুলির বিরুদ্ধাচারণ করার জন্য যে একটি দল রয়েছে, সেই দলের লোকেরাই তো এই কাজটি করেছে, তাই না? এবং এ দলের লোকেরা যে কাজটি করেছে, সরকারি কাজে বাধা দিয়েছে।”
বিমানমন্ত্রী বলেন, “সরকারের এখানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, যিনি এই এয়ারপোর্টের দায়িত্বে নিয়োজিত, তিনি এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর, গ্রুপ ক্যাপ্টেন, তাকে উদ্ধত হয়ে মারতে গিয়েছে, একজনকে মেরেছে। তো এই যে ঘটনাগুলি, এগুলি অনভিপ্রেত এবং এগুলি ইচ্ছাকৃত।”
বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা ও ট্রলি নিয়ে তিনি বলেন, ‘এবং এটা এখানে একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে… অনেকেই আমি এখন শুনলাম—আমি পরীক্ষা করতে এসেছিলাম—যে আপনার কাস্টমসের যে ক্লিয়ারেন্স দিয়ে বের হবে, সেদিকে না গিয়ে ট্রলির জায়গা দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছিল। এবং ট্রলির যে কথা বলা হয়েছে, ট্রলি এপাশে অনেক ছিল। সে ট্রলিগুলো আনতে তো একটা সময় লাগে। একটা ফ্লাইট নামলে, বিশেষ করে দুইটা ফ্লাইট একসঙ্গে নামলে ট্রলিগুলো আনতে সময় লাগে।”
আরও বলেন, “মানুষের মানসিকতায় যদি থাকে যে, ঠিক আছে, আমার দেশ, আমার ভূমি, আমি সুন্দরভাবে, সুশৃঙ্খলভাবে থাকব এবং সুন্দরভাবে এগুলোকে ট্যাকল করে চলব, তাহলে কিন্তু কোনো ঝামেলা নাই। আর যদি ইচ্ছাই থাকে যে আমি অযথাই একটা কিছু করব আর কি, সেটা তো অন্য ব্যাপার।”
“এবং সবচেয়ে বড় ব্যাপার হয়েছে যে আমাদের অফিসারদের, সরকারি কর্মকর্তাদের—এটা তুলে ধরার একটা প্রবণতা দেখা গেছে যে সরকারি কর্মকর্তা হয়তো কাজ করে না, এই সরকারের আমলে কাজ করছে না। এটা বিরোধী দল যারা করেন আর কি, এবং সরকারের ভালো কাজগুলোকে ঢেকে দেওয়ার জন্য একটা বিভিন্ন জায়গায় ভুল বিষয় উপস্থাপন করে করে এরকম বিব্রত করার চেষ্টা করছে।”
