ঢাকা: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অসামান্য সব ছবি তুলে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা প্রখ্যাত ভারতীয় আলোকচিত্রী রঘু রাই মারা গেছেন।

তবে শুধু অসামান্য না, মুক্তিযুদ্ধে মানুষের দুর্দশাগুলোও বাস্তব কথা বলে তাঁর ছবিতে।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিদেশি আলোকচিত্রীদের মধ্যে রঘু রাই ছিলেন অন্যতম।

১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সে সময় ভারতে আশ্রয় নেওয়া লাখো বাংলাদেশি শরণার্থীর চরম মানবিক সংকটের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করেন।

তাঁর তোলা মুক্তিযুদ্ধের ছবি ও পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক মুহূর্ত সেই সময় আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক নাড়া দেয়।

মুক্তিযুদ্ধের চিত্রপট জীবন্ত হয়ে ধরা দিয়েছে এই আলোকচিত্রীর ছবিতে।

জীবনের তোয়াক্কা না করে তারা বিশ্বকে দেখিয়ে গেছেন যুদ্ধের ভয়াবহতা।

যুদ্ধের সময়ে ছবি তোলার কথা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে একবার রঘু রাই দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেছিলেন, ‘যখন আমাকে দ্য স্টেটসম্যান (যেখানে আমি কাজ করতাম) থেকে বাংলাদেশ হতে আগত শরনার্থীদের ছবি তোলার জন্য নিয়োগ করা হলো, তখন আমার অবচেতন মনের কোথাও হয়তো শৈশবে নিজের শরণার্থী হয়ে যাওয়া এবং অজানা জায়গায় হেঁটে যাওয়ার অভিজ্ঞতা মাথায় ভর করে বসেছিলো। তাই যুদ্ধের সময়ে আমি পাগলের মত করে বাংলাদেশের শরণার্থীদের ছবি তুলেছিলাম।’

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং শরনার্থী নিয়ে কাজ করার ফলে ১৯৭২ সালে ভারত সরকার তাকে ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কারে ভূষিত করে।

এই কিংবদন্তি আলোকচিত্রী আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) না ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন।

রঘু রাইয়ের মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শোকপ্রকাশ করেছে।

একইসাথে পরলোকগত রঘু রাইয়ের বিদেহ আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *