গাজীপুর: আবাসিক হোটেলে এর আগেও বহু অনৈতিক ঘটনা এবং খুনের মতো ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে নারীদের খুন করে পুরুষ সঙ্গীর পালিয়ে যাওয়ার বহু নজির আছে। তারপরেও এই সমস্ত হোটেলে কোনো কড়াকড়ি নেই।
পুরুষ মহিলা ভুয়া পরিচয় দিয়ে, হয়তো নিজেদের স্বামী স্ত্রী পরিচয় দিয়ে আসছে, বা নাম কাম পাল্টে- তারপর দেখা যায় মহিলাকে খুন করে পালিয়ে যায় পুরুষটি। এইসব তো নিছক কম নয়!
ধর্ষণ করছে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারপর হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছে। অহরহ ঘটনাগুলো ঘটনার পরেও সরকার, প্রশাসনের চোখ খোলে না। দিবানিদ্রায় আছে সবাই।
এবারো গাজীপুরে এমন ঘটনা ঘটলো। মহানগরীর বাসন থানার চান্দনা-চৌরাস্তা এলাকার ‘ই ভ্যালি’ নামের একটি আবাসিক হোটেলের ৩০৭ নম্বর কক্ষ থেকে শান্তা বেগম (৩৩) নামে এক নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাতে মরদেহটি উদ্ধার করে বাসন থানা পুলিশ। নিহতের সঙ্গে হোটেলে যে পুরুষটি উঠেছিলেন তার নাম লিখন মিয়া। ঘটনার পর তিনি পলাতক রয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাসন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: হারুন অর রশিদ।
পুলিশ জানায়, নিহত শান্তা বেগম (৩৩) গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার হরিরামপুর এলাকার শহিদুল ইসলামের মেয়ে।
বাসন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুপক জানান, হোটেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুরে শান্তা বেগম মো. লিখন মিয়া (৩৫) পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তির সঙ্গে হোটেলে ওঠেন। তবে ওই ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় নিয়ে পুলিশের সন্দেহ রয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, হোটেলে কক্ষ ভাড়ার সময় লিখন মিয়া পরিচয়দানকারী ব্যক্তিটি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করেছেন।
এদিকে, হোটেল কর্তৃপক্ষ জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না নিয়েই কক্ষ ভাড়া দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের তো টাকা লাগে, পরিচয়পত্রের কী দরকার! এইভাবেই ওরা বড়লোক হয়।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার পর থেকেই লিখন মিয়া পরিচয়দানকারী ওই ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন। তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এসআই রুপক জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এলে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মামলা দায়ের করা হবে।
হঠাৎ হোটেলে এলো, তারপর কী করে খুন? সন্দেহ করা হচ্ছে, মহিলাকে ধর্ষণ করে খুন করে পালিয়েছে লিখন।
তবে এই সত্য হয়তো উদ্ধার হবে না। উপর মহলের হাত থাকলে সব আড়াল হয়ে যায়।
বাসন থানার ওসি মো: হারুন অর রশিদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
