নরসিংদী: এবার এক ব্যক্তির কানে রীতিমতো কামড় দিয়ে দিলেন বিএনপি নেতা! আজ্ঞে হ্যাঁ, সত্যিই বলছি! কানে সোজা কামড় বসিয়ে বললেন ‘এলাকা ছাড়’!
ঘটনা নরসিংদীর। নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় সাখাওয়াত হোসেন (৪৮) নামে এক বালু ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে বিএনপির এক নেতা কানে কামড় দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ওই ব্যবসায়ীর কানে ইতিমধ্যে চারখানা সেলাই দিতে হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার ঘোড়াশালে বাংলাদেশ জুটমিলের সামনে এই সুন্দর অথচ করুণ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত কানে কামড় দেয়া বিএনপি নেতার নাম মহিউদ্দিন চিশতিয়া। তিনি ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
ভুক্তভোগী বালু ব্যবসায়ীর নাম সাখাওয়াত হোসেনের বাড়ি পাশের গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জে। বর্তমানে তিনি পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যার পর রোগীর কানে চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। তিনি এখন আমাদের পর্যবেক্ষণে আছেন।’
ভুক্তভোগী সাখাওয়াত হোসেন জানান, ঘোড়াশালে বাংলাদেশ জুটমিলের ভেতরে টি কে গ্রুপের নির্মাণাধীন একটি প্রতিষ্ঠানে বালু ভরাটের কাজে শীতলক্ষ্যা নদীতে ড্রেজার বসিয়েছিলেন সাখাওয়াত হোসেন।
ড্রেজার শ্রমিকদের বেতন দিয়ে ফেরার পথে জুটমিলের সামনে দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন এসে আচমকা তাঁর পথরোধ করেন।
এবং তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে বিএনপি নেতা মহিউদ্দিনের বাড়িতে যান ওই ব্যক্তিরা। বাড়িটিতে তাঁকে এক ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। আটকে রেখে মহিউদ্দিনসহ আরও ৬-৭ জন কিলঘুষি, চড়থাপ্পড় মারতে থাকেন।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই গলা চেপে ধরে সাখাওয়াতের এক কানে কামড় বসিয়ে দেন বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন আচমকা।
তিনি জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় কেটে যাওয়া কান চেপে ধরলে ‘ড্রেজার সরিয়ে এলাকা ছাড়ার হুমকি’ দেওয়া হয় তাকে।
সাখাওয়াত হোসেনের ভাষ্য, একপর্যায়ে মহিউদ্দিন কেন তাকে না জানিয়ে সেখানে ড্রেজার মেশিন বসানো হয়েছে জানতে চান।
প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগেই গলা চেপে ধরে সাখাওয়াতের এক কানে কামড় বসিয়ে দেন।
