Oplus_131072

ঢাকা: চিন্ময় প্রভুর মায়ের শেষ ইচ্ছাটুকুও পূরণ হতে দিল না বর্তমান সরকার। ছেলেকে এক মুহূর্ত দেখার তেষ্টা নিয়েই মারা গেলেন এই মা। আর মুখটা পর্যন্ত দেখতে পারলেন না ১০ মাস গর্ভে ধারণ করা সন্তানের।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৩৪ মিনিটের দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধাম আশ্রমে তিনি মারা যান।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী প্রভুর মায়ের নাম সন্ধ্যা রানী ধর।

মা তাঁর সন্তান‌কে শেষবা‌রের ম‌তো একবার দেখ‌তে চে‌য়ে‌ছি‌লেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ নি‌য়ে তি‌নি আর্জিও জা‌নিয়ে‌ছি‌লেন। কিন্তু মু‌ক্তি মে‌লে‌নি চিন্ময় প্রভুর। মাকে শেষ দেখা‌টাও দেখ‌তে পার‌লেন না।

জ/ঙ্গী/স্তা/নের (পূর্ব নাম বাংলা‌দেশ) সরকার বিনা অপরা‌ধে একজন সাধু‌কে বছ‌রের পর বছর ধ‌রে কারা নির্যাতন ক‌রে চ‌লেছে। এ অমান‌বিকতা, এ নির্যাত‌নের শেষ কোথায়?

মৃত্যুপথযাত্রী এক মাকে এই দেশে চোখের দেখা‌ও দেখতে দেয়া হয় না সন্তানকে।

মনে করিয়ে দেই, চিন্ময় প্রভু‌কে প্রথম যে মামলায় গ্রেফতার করা হয়, সে‌টি ছি‌লো পতাকা ওড়া‌নো সংক্রান্ত একটা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা। মামলার বাদী ছি‌লো এক বিএন‌পির পদধারী নেতা। আর গ্রেফতার ক‌রে‌ছি‌লো ইউনুস বা‌হিনী। এখন জেল খা‌টা‌চ্ছে তা‌রেক বা‌হিনী।

জ/ঙ্গী/স্তা/নে হরহা‌মেশাই আপ‌নি জাতীয় পতাকার উপর কা‌লেমা লেখা পতাকা ওড়া‌তে দেখবেন। তখন কো‌নো রাষ্ট্রদ্রোহ হয় না।

জঙ্গীরা দিব্যি ঘুরে বেড়ায়। পতাকা মা‌টি‌তে পে‌তে তার উপর পা দি‌য়ে দাঁ‌ড়ি‌য়ে নামাজ পড়‌এ। তার জন্য কো‌নো রাষ্ট্রদ্রোহ হয় না। বোঝা গে‌লো ব্যাপারটা?

চিন্ময় প্রভুর বিরু‌দ্ধে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ মামলা কোন‌টি? এক‌টি হত্যা মামলা। মিথ্যা মামলা। ফাঁসানোর মামলা।

যে‌ মামলায় তাঁকে ফাঁ‌সি বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আয়োজন চল‌ছে। চট্টগ্রা‌মের আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা।

অথচ আলিফ যখন খুন হয়, তখন চিন্ময় প্রভু কোথায়? জেল থে‌কে পু‌লি‌শের তত্ত্বাবধা‌নে আদাল‌তে হা‌জিরা দি‌তে তাঁকে নেওয়া হ‌য়ে‌ছে। চিন্ময় প্রভু প্রিজন ভ্যানে তখন।

আর বাইরে খুন হ‌লো আলিফ। আসামী হ‌লেন জেল, পু‌লিশ, প্রিজন ভ্যানে, আদাল‌তের জিম্মায়।

এককথায় বলতে হবে চিন্ময়ের মাকে প্রকারান্তরে রাষ্ট্রই মারলো।

ছেলে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন সন্ধ্যা রানী ধর।

ছেলের অসুস্থতার খবর, বারবার জামিন না হওয়া এবং কারাগার থেকে মুক্তি না পাওয়ায় তিনি গভীর দুশ্চিন্তায় ছিলেন।

এর আগের দিন বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গুরুতর অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে দেখার জন্য চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে শর্ত সাপেক্ষে সাময়িক মুক্তি (প্যারোল) দেওয়ার আবেদন করেছিল তাঁর পরিবার।

চিন্ময়ের বড় ভাই রঞ্জন কুমার ধরের করা ওই আবেদন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ‘বিধান নেই’ জানিয়ে নাকচ করে দেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *