ঢাকা: বিদায় রোনালদো! এই প্রজন্মের অন্যতম সেরা ফুটবল তারকা। অসংখ্য গোল, রেকর্ড আর অনুপ্রেরণা ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।
কিংবদন্তিদের বিদায় হয়, কিন্তু তাদের উত্তরাধিকার কখনো শেষ হয় না।
ঐতিহাসিক একটা ক্যারিয়ার শেষ হলো বিশ্বকাপ ট্রফি ছাড়াই। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচে স্পেনের মিকেল মেরিনো ইনজুরি-টাইমে গোল করে পর্তুগালকে বিদায় দিলো রাউন্ড অব ১৬ থেকে।
৪১ বছর বয়সী এই তারকা পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী, পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ চ্যাম্পিয়ন এবং ইউরো ২০১৬ বিজয়ী। ক্লাব এবং দেশের হয়ে তাঁর গোল সংখ্যা বিশ্বরেকর্ড ৯৭৬টি।
উল্লেখযোগ্য যে, রোনালদো ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড় যিনি ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করেছেন।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো স্বীকার করেন, তিনি তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচটি খেলে ফেলেছেন। যদিও এই তারকা নিজের আন্তর্জাতিক ফুটবল ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না।
পর্তুগালের জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেকের দীর্ঘ ২৩ বছর পর ডালাসে স্পেনের বিপক্ষে ১-০ গোলের হেরে এবারের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল।
রোনালদো জানিয়েছেন, তিনি শান্ত মনে এবং তৃপ্তি নিয়েই বিদায় নিচ্ছেন। তাঁর মতে, ২০১৬ সালে পর্তুগালের হয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়টি ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের সমান ছিল।
ম্যাচ শেষে রোনালদো বলেন, ‘এভাবে বিদায় নেওয়াটা দুঃখজনক, তবে আমি আমার সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি, সবসময় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমি একদম পরিষ্কার বিবেক নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। এটাই ফুটবল, একজন ফুটবলারের জীবন এমনই। কখনো আপনি জিতবেন, কখনো হারবেন। আপনাকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
হ্যাঁ, এটিই ছিল আমার শেষ বিশ্বকাপ। তবে ক্যারিয়ারের বাকি অংশের ব্যাপারে ভাবার জন্য অনেক সময় আছে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাব। আবেগে বা তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ যেভাবে ঘুম থেকে উঠেছি, আগামীকাল সকালেও ঠিক সেভাবে জাগব, মনে কোনো অনুশোচনা থাকবে না। আমি পর্তুগালের হয়ে তিনটি শিরোপা জিতেছি। ক্রিশ্চিয়ানোর আগে পর্তুগাল কখনো বড় কোনো ট্রফি জেতেনি। জাতীয় দলের হয়ে আমার জেতা সেরা ট্রফি ছিল ২০১৬ সালের ইউরো, যা আমার কাছে বিশ্বকাপের সমান মর্যাদার। তাই আমি আবারও বলছি, আমি এখান থেকে পরিচ্ছন্ন বিবেক নিয়ে যাচ্ছি। আগামীকাল আরেকটি নতুন দিন আসবে এবং জীবন তার নিয়মে চলবে।’
