ঢাকা: ১০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও? আমানত ফেরতের দাবিতে সড়কে শত শত গ্রাহকের প্রতিবাদ! শুধু আশ্বাস আর আশ্বাস!
কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালীতে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট শাখায় গ্রাহকদের জমা করা প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
জনগণের রক্ত পানি করা টাকা মেরে দিয়েছে। টাকা ফেরতের দাবিতে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভের পর কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক অবরোধ করেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে পালংখালী স্টেশন চত্বরে কয়েকশ গ্রাহক জড়ো হন।
জমা রাখা টাকা নেই, ব্যাংক কর্মকর্তারাও নেই!
কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালীতে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, মানুষের কষ্টার্জিত টাকা গেল কোথায়?
আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পালংখালী এজেন্ট শাখায় বছরের পর বছর টাকা জমিয়েছিলেন গ্রাহকরা।
কেউ ব্যবসার টাকা, কেউ সারা জীবনের সঞ্চয়, কেউ আবার ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য অল্প অল্প করে টাকা জমিয়েছিলেন।
কিন্তু টাকা তুলতে গিয়ে অনেকেই দেখলেন, হিসাবে গরমিল, টাকা গায়েব।
এরপর ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে ছুটেও নানা অজুহাতে টাকা ফেরত পাননি। একপর্যায়ে ১৭ আগস্ট শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উধাও হয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে।
এরপরই শুরু হয় গ্রাহকদের দুশ্চিন্তা, কান্না, প্রতিবাদ।
শনিবার দুপুরে পালংখালী স্টেশন চত্বরে শত শত গ্রাহক জড়ো হয়ে টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন।
স্থানীয় মাংস ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান এসেছিলেন নিজের টাকা ফেরতের দাবিতে। জানা গেছে, ওই এজেন্ট শাখায় প্রায় ৯ লাখ টাকা জমা ছিল তাঁর। প্রতিবাদ চলার সময় হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।
স্বজনদের ভাষ্য, এই টাকা ছিল তাঁর সারা জীবনের সঞ্চয়। টাকা হারানোর আশঙ্কায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
প্রশ্ন হলো, ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় টাকা জমা রেখে যদি গ্রাহককেই দিনের পর দিন রাস্তায় নামতে হয়, তাহলে আমানতের নিরাপত্তা কোথায়?
এই ঘটনায় এজেন্ট মালিক হাকিম উদ্দিন, ক্যাশিয়ার তাহসিন ইসলাম, ম্যানেজার হাবিব উল্লাহ ফরহাদসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ, হিসাবের নথি ও জমার রসিদে জালিয়াতির অভিযোগ আছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে দুজনকে আগেই আটক করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের পক্ষ থেকে আদালতেও একাধিক মামলা হয়েছে।
