ঢাকা: বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির পথ সুগম করতে সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ‘মহানগর পরিবার দিবস-২০২৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথা বলেছেন তিনি।
অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘চিন্ময় দাসকে অন্তর্বতীকালীন সরকার গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল যে, তাকে এভাবে আটক রাখা হয়েছে। আমি এ বিষয়টি নিয়ে যথাযোগ্য জায়গায় আজ-কালের মধ্যেই কথা বলব এবং তার মুক্তির যেন সুগম হয়, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
এবং নিতাই বাবুর কথা যদি সত্যি হয়, তাহলে তা অবশ্যই অত্যন্ত ভালো খবর হবে।
কিন্তু কাজটা এখনো হয়নি। তিনি শুধু কথা একটা বলেছেন। আর এতেই গায়ে আগুন ধরে গিয়েছে ইসলাম মৌলবাদী গোষ্ঠীর। যারা সারাজীবন ধর্ম রক্ষার কাজে ব্যস্ত, তারা কীভাবে পরের ধর্মকে সম্মান জানাতে হয় সেটাই জানেনা।
একজন হিন্দু সন্ন্যাসী যিনি মাছ মাংস ভক্ষণ করেন না, একটা প্রাণী হত্যা করেন না। তাঁর নামে দিয়ে দেয়া হয়েছে হত্যা মামলা! আইনকে হাতের মুঠোয় রেখে সারা দেশ দখল করতে চায় একদল, এটা তাদের কাজ।
ধর্মীয় সাধু চিন্ময় দাসকে ড. ইউনূস আমল থেকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। চিন্ময়ের ওপর এতো ক্ষেপার কারণ তিনি হিন্দু।
যেই না বলেছেন মন্ত্রীসাহেব যে তাঁর মামলার বিষয়টি কি তা খোঁজ নিয়ে দেখবেন আর যায় কোথায়! তেড়ে এসেছে জামাতির দল।
এখন বলা হচ্ছে নিতাই রায় চৌধুরী নাকি ভারতের দালাল। ফেসবুক ভাসিয়ে ফেলা হচ্ছে যত অশ্লীল পোস্ট আর কমেন্টে। এখন তো মনে হচ্ছে নিতাই রায় চৌধুরীর মন্ত্রীত্ব যায় যায় অবস্থা।
চিন্ময় দাসের মুক্তি চাইলে তিনি ভারতের দালাল হবেন কেন? এর সঙ্গে ভারতের কি সম্পর্ক? চিন্ময় প্রভু কি ভারতের নাগরিক?
নাহ এসব কিছু না। আসলে এই জেহাদী গোষ্ঠী মনে করে হিন্দুদের এখানে থাকার অধিকার নেই। হয় ভারতে চলে যাবে, নয় জেলে থাকবে, নয় মরবে।
এখন তো শেখ হাসিনা নাই। দিল্লি না ঢাকা এ স্লোগানও ব্যর্থ হয়েছে। যারা দিল্লির বদলে করাচি চেয়েছিল তাদের জন্য করাচি থেকে কোনো ডিজেল আসেনি। যা সাহায্য আসছে তা ভারত থেকেই আসছে।
ভারত থেকে ডিজেল আসছে। গরু মহিষ ছাগল আসছে। কোয়েল পাখির ডিম আসছে। তেল চিনি চাল পেঁয়াজ আসছে।
অথচ এই একটা গোষ্ঠী, এরা চিৎকার করে মরে যায়। আমার ভারতের দেয়া ডিজেল ব্যবহার করে ফূর্তি করে! অদ্ভুত মানসিকতা সম্পন্ন মানুষ রয়েছে এই দেশে।
