ঢাকা: সনাতনীদের সাথে এই দেশে তো আজ থেকে নয়, সেই কাল থেকে অন্যায় অবিচার হয়ে আসছে। এই ঘটনাগুলো এতটাই গা সওয়া হয়ে গেছে যে মাঝে মাঝে মনে হয় হিন্দু ঘরে জন্মানোই পাপ! বড় দুঃখেই লিখলাম।
আসলে শুধু হিন্দু হবার কারণে কত যে নির্যাতন চলেছে তার কোনো হিসেব নেই।
সরকার যে অন্যায় ও বিমাতা সুলভ আচরণ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের সাথে করেছে তা বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথেই করছে একমাত্র কারণ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস হিন্দু সম্প্রদায়কে জাগতে বলেছিলেন, হিন্দু সম্প্রদায়কে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করেছিলেন, অধিকার আদায় করে নিতে বলেছিলেন, আওয়ামীলীগ থেকে শুরু করে সকল সরকার হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে যে অন্যায় করছে সেই অন্যায়গুলো তুলে ধরেছিলেন।
বেশি জাগ্রত করলে হিন্দু সচেতন হলে বিপদ, তাই আগেভাগে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে শিকের ভিতর।
নিরপরাধ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে দিনের পর দিন কারাগারে কাটাতে হচ্ছে।
মহম্মদ ইউনুসের সরকারের শাসনকালের একাধিক মামলায় দীর্ঘদিন ধরে জেলবন্দি রয়েছেন সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ব্রহ্মচারী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস।
তারেক রহমানের জমানায় মাত্র একটি মামলায় জামিন পেলেন তিনি।
আরও ছয়টি মামলায় বিচারাধীন থাকায় এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না তিনি।
চিন্ময়ের আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, যে মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে জামিন দেওয়া হয়েছে, দায়ের করেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী মীর মহম্মদ নাসির উদ্দিন, যিনি পার্বত্য অঞ্চল ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মহম্মদ হেলাল উদ্দিনের বাবা।
ওই মামলায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী জেলার মেখাল এলাকায় জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছিল হিন্দু সন্ন্যাসীর বিরুদ্ধে।
২০২৩ সালে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ছাড়াও আরও ৫ জনের বিরুদ্ধে একই মামলা দায়ের হয়েছিল।
বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন প্রসঙ্গে সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, চিন্ময় দাসের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল যে তাঁকে এভাবে আটক রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি যথাযথ জায়গায় আজ-কালের মধ্যেই কথা বলবো এবং তাঁর দ্রুত মুক্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ‘মহানগর পরিবার দিবস-২০২৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি চিন্ময় সম্বন্ধে এই কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য চাই। এটাই সরকারের নীতি এবং সেই নীতিতেই আমরা কাজ করছি।
