ঢাকা: রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক ব্যবসায়ীকে মোটরবাইক কেনার কথা বলে ডেকে নিয়ে আটকে রেখে মারধর, চাঁদা দাবি এবং অপহরণের অভিযোগে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের (ডিজিএফআই) দুই সদস্য ও একজন আনসার সদস্যসহ মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

দেশের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ঘটনা এটি।

গত রবিবার (২৫ অক্টোবর, ২০২৬) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মোহাম্মদপুর থানার আওতাধীন চন্দ্রিমা মডেল টাউনের ৬ নম্বর রোডের ১৭ নম্বর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার শিকার ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নাম মোহাম্মদ শরীফ। তিনি পেশায় একজন মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী।

শনিবার রাতে শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে ওই ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাদেরকে মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ।

মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ আদালতে পাঠালে ঢাকা মেট্রোপলিট্রন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- ডিজিএফআই সদর দপ্তরের সার্জেন্ট আল মামুন (৩৯), একই সংস্থার ল্যান্স করপোরাল নুরুজ্জামান (৩১), আনসার সদস্য সোহেল রানা (৩২) ও বেসরকারি কোম্পানির নিরাপত্তা প্রহরী মুকুল গাজী (২৬)।

এবং বাকি দুইজন হলেন নেত্রেকোণার কলমাকান্দা উপজেলার মাহফুজুর রহমান (২২) ও লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থানার জিয়াউল ইসলাম (৩৫)।

সোনিয়া (৩০) ও ফনিরুল ওরফে মনিরুল (৪৫) নামে আরও দুজনকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ বলেছে, মামলাটি করেছেন শ্যামলীর মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী মো. শরীফ।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, পাশাপাশি বাড়ি থাকার জন্য আনসার সদস্য সোহেল রানার সঙ্গে তাঁর বেশ ঘনিষ্ঠতা হয়। সখ্যতা ভালোই ছিলো তাঁদের।

শনিবার সোহেল রানা তাঁকে চন্দ্রিমা মডেল টাউনের একটি বাসায় নিয়ে যান।

এজাহারে বাদী দাবি করেছেন, মোটরসাইকেল কেনার জন্য তিনি ওখানে যান। সেখানে সোনিয়া নামে একজন নারী ছিলেন, যাকে নিজের বোন বলে পরিচয় দিয়েছিলেন আনসার সদস্য সোহেল।

এরপর বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে সোহেল ঘর থেকে সোজা বের হয়ে যান।

আর এর অল্প কিছুক্ষণ পরেই মামলার বাকি আসামিরা সেখানে এসে তাঁকে মারধর করা শুরু করেন এবং ১০ লাখ টাকা দাবি করেন।তাঁরা সবাই শরীফকে আটকে রেখে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।

এজাহারে বাদী বলছেন, তিনি ঘটনাস্থলেই আসামিদের ৭০ হাজার টাকা দেন।

কিন্তু তাদের ঐ টাকা চাই, এরপর আরও মারধর করে। তিনি তার পরিবারকে ফোন দিয়ে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করেন। তাকে ওই বাড়িতে আটকে রাখা হয়।

বাদীর অভিযোগ, ভোর ৩টার দিকে আসামিরা তাকে ওই বাড়ি থেকে নামিয়ে একটি টয়োটা গাড়িতে উঠায়। গাড়িটি শেরেবাংলা নগরে শিশু হাসপাতালের উল্টো দিকে রেখে আসামিরা চা পান করতে নামে।

এই সময় বাদী একটি পুলিশের গাড়ি দেখতে পেয়ে দৌড় দিয়ে গিয়ে পুলিশের কাছেও সাহায্য চায়। গাড়িটি ছিল শেরেবাংলা নগর থানার একটি টহল দলের। টহল পুলিশ তাৎক্ষণিক ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে।

এই স্পর্শকাতর বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের কোনো কর্মকর্তা গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *