ঢাকা: প্রেমের টানে সবাই বাংলাদেশে আসে। চিন, জাপান, পাকিস্তান- কেউ বাকি আছে? প্রেমের টানে যুবকরা এই বাংলায় চলে আসে অবলীলায়। কেউ কেউ প্রতারিতও হয়। ফিরে যায়। আবার কেউ বিয়ে করে স্ত্রীকে নিজের সাথে নিয়ে চলে যায়।

এইতো বাংলার প্রেমকাহিনী চলছে।

এবার ‘হ্যালোটক’ অ্যাপে পরিচয় হয় যশোরের তন্দ্রা খাতুনের (২৯) সঙ্গে চীনা ব্যক্তি লি বিংয়ের (৪১।

আর সেই চিনা ব্যক্তি সোজা চলে আসেন বাংলাদেশে‌। ফেসবুকে এখন তাদের ছবিই ঘুরে বেড়াচ্ছে।

‘উইচ্যাট’-এ নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্কের গভীরতা হয় তাঁদের। তারপর দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয় এই প্রেমিক জুটি। এখন তারা দম্পতি। এবং চিনা ব্যক্তি প্রেমিকার জন্য ইসলাম ধর্মও গ্রহণ করেন।

প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে ১৮ জুন বাংলাদেশে চলে আসেন চীনা যুবক লি বিং। পরদিন সন্ধ্যায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তাঁর নাম হয়েছে মোহাম্মদ তাওহিদ। এরপর তন্দ্রার সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।

তন্দ্রা খাতুন যশোর সদর উপজেলার বাউলিয়া গ্রামের মন্টু মোল্লার মেয়ে, আর চীনের রাজধানী বেইজিং উত্তরের বাসিন্দা লি বিং ওরফে মোহাম্মদ তাওহিদ।

বাংলাদেশ চিনের বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই চাইনিজ জামাইকে এক নজর দেখতে তন্দ্রাদের বাড়িতে ভিড় করছেন আশপাশের কৌতূহলী মানুষজন।

চিনা ব্যক্তিও সবার সামনে তন্দ্রার হাত ধরে আছেন।

যশোর সদর উপজেলার তথ্যকেন্দ্রে কাজ করতেন তন্দ্রা খাতুন। তিনি জানিয়েছেন, প্রায় আট মাস আগে ‘হ্যালোটক’ অ্যাপের মাধ্যমে লি বিংয়ের সঙ্গে পরিচয়। পরে ‘উইচ্যাট’-এ নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের সম্পর্ক গভীর হয়। একপর্যায়ে দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত।

তন্দ্রা এই বিষয়ে বলেন, তার টানেই চীন থেকে বাংলাদেশে এসেছে লি বিং। গত ১৮ জুন বাংলাদেশে আসে। পরদিন সন্ধ্যায় যশোর জজ কোর্টে ইসলামী রীতি অনুযায়ী আমাদের বিয়ে হয়।

তিনি জানান, বিয়ের পর দুই দিন হোটেলে ছিলাম। এখন সে আমাদের বাড়িতে আছে। আল্লাহর রহমতে আমরা ভালো আছি। ভিসার সব প্রক্রিয়া শেষ হলে আমি তার সঙ্গে চীন চলে যাব।

মোহাম্মদ তাওহিদ (লি বিং) জানান, তিনি একটি স্মার্ট লক (তালা) উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *