ঢাকা: শুরু সনাতনীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। পূজামন্ডপগুলো ঢাকের আওয়াজে মুখর হয়ে উঠবে।
আগামিকাল শুক্রবার মহাষষ্ঠী।এর মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা।
গত ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয়। এরপর থেকেই দেবী দুর্গার আগমনের অপেক্ষায় রয়েছেন ভক্তরা।
এখনো মণ্ডপে মণ্ডপে কাজ চলছে।
বাংলাদেশে এই বছর ৩৩ হাজারের বেশি পুজো হচ্ছে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর জানান, এবার সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর সংখ্যাটা ছিল ৩৩ হাজার ৩৫৫। সে হিসেবে এবার মণ্ডপ বেড়েছে ৪৯৬টি।
দুর্গাপূজার দিনগুলোতে মণ্ডপে মণ্ডপে অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ, আরতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।
ঢাকেশ্বরীতে এবার বাজেট ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস জানান, এবার পূজার বাজেট ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। প্রতিমা তৈরি, সাজসজ্জা ও ছয় দিন প্রসাদ বিতরণসহ বিভিন্ন কাজে এই অর্থ ব্যয় হবে। বিজ্ঞাপন ও অনুদান থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রতিমা তৈরি করছেন সুকুমার পাল। এবারও তিনিই প্রতিমা তৈরি করছেন। দেড় মাস আগে কাজ শুরু হয়েছে।
প্রতিমা তৈরিতে ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ১০ লাখ এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান ৫ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন।
এবার ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রতিপাদ্য হলো ‘পরিবেশবান্ধব দুর্গাপূজা’।
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ জানান, এবার ঢাকেশ্বরীতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যাবেন।
মহাষ্টমীতে প্রসাদ বিতরণ উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। প্রসাদ বিতরণের পরিমাণ এবার বেড়েছে। ফলে বাজেটও বেশি রাখা হয়েছে।
এছাড়াও নিরাপত্তায় বাড়তি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে যাতে মৌলবাদীরা কোনো ঝামেলা করতে না পারে।
মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা থেকে শুরু করে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ ও প্রবেশপথে নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে দর্শনার্থীদের নিরাপদ চলাচল এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
