ঢাকা: ৮ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ এবং খুন করা হয়েছে নৃশংসভাবে। তাকে তো ধর্ষণ-খুন করা হয়েছে? তাই না?

এখন যদি বলা হয় নাহ, রামিসাকে ধর্ষণও করা হয়নি, খুনও করা হয়নি- সে নিজেই নিজেকে টুকরো করেছে এবং মরে গিয়েছে! এটা কি সত্যি হবে?

এখন তো ঘটনার পর্যবেক্ষণে তাই মনে হচ্ছে। এই দেশে খুনী এইভাবেই সাজামুক্ত হয়ে যায়।

এখন বলা হচ্ছে, রামিসাকে যে ধর্ষণ করা হয়েছে, ডিএনএ টেস্টে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি!

প্রমাণ নষ্ট করার জন্য আসামি সোহেল নাকি পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলেছিলো! প্রমাণ নষ্ট সে করবে কেন? দোষ করেছে বলেই?

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, প্রমাণ যেহেতু পাওয়া যায়নি, তারপরে কি এটাই বলা হবে যে রামিসা ধর্ষণ হয়নি!? ভাবছি তারপর আর কোন কোন খেলা শুরু হবে এই পাশবিক ঘটনাটা নিয়ে? খুনী, ধর্ষককে বাঁচানোর খেলা তো ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে।

একটি বিষয় খেয়াল করেছেন নিশ্চয়ই, যতদিন রামিসা হত্যা মামলার আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিল না, ততদিন তার বক্তব্যে তেমন কোনো পরিবর্তন বা নতুন ব্যাখ্যা দেখা যায়নি।

কিন্তু তার পক্ষে আইনজীবী দাঁড়ানোর পর থেকেই আসামি বিভিন্ন ধরনের নতুন বক্তব্য দিতে শুরু করেছে।

অবশ্যই প্রত্যেক আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রয়েছে এবং আইনজীবী পাওয়াও তার সাংবিধানিক অধিকার। তবে কোনো মামলায় হঠাৎ করে বয়ান পরিবর্তন বা নতুন নতুন বক্তব্য সামনে এলে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক।

সত্য উদঘাটনের একমাত্র পথ হলো নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়া।

এখন আবার এর মাঝখানে আরো একজনের নাম আসছে ডলার! সোহেল বলেছে ডলার নাকি টুকরো করেছে দেহ। কে এই ডলার? কোনো পাত্তা নেই!

আসামি সোহেল রানা প্রথমে ছুরির আঘাতে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করেন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে আলামত নষ্ট করে ফেলেন। যার কারণে শিশু রামিসার ডিএনএ টেস্টের পরও ধর্ষণের আলামত মেলেনি। তবে আলামত মুছে ফেলার বিষয়টি মামলার চার্জশিটে উঠে এসেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। সোমবার ছিল মামলাটির চার্জগঠন শুনানি।

ধর্ষণের পর কৌশলে ভুক্তভোগীর শরীর থেকে আলামত মুছে ফেলার বিষয়টি উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু।

শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চার্জশিটভুক্ত প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরুর আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার স্বাক্ষ্য গ্রহণের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন আদালত।

বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন মামলাটির বিচারকাজ চলবে।

সোমবার সকাল পৌনে ৮টায় শুনানির জন্য সোহেল ও স্বপ্নাকে কারাগার থেকে মহানগর আদালতের হাজতখানায় হাজির করা হয়।

এরপর বেলা ১১টার দিকে প্রথমে সোহেল রানাকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, মাথায় হেলমেট পড়িয়ে কাঠগড়ায় নেওয়া হয়।

এসময় আসামি সোহেল রানা সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলে, ধর্ষণ করছে ডলার। তাকে ধরেন। ধর্ষণ করছে ডলার, মারছেও ডলার। সেই কাম করছে। আমি শুধু লাশ গুম করতে চেয়েছি। কিন্তু পারিনি।
এসময় সোহেলের কাছে ডলারের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডলারের বাসা মিরপুরের ১১ নাম্বারে। সে ধনী মানুষ।’

এছাড়া সোহেল বলেন, আমার ডিএনএ টেস্ট করা হয়নি।

কেন করা হলো না ডিএনএ টেস্ট? এই প্রশ্ন তো থাকছেই। এই মামলায় হয়তো আসামিকে বাঁচানোর জন্য কোনো ব্যক্তি ঢুকে পড়েছে, তাই সবকিছু এলোমেলো করে ফেলা হচ্ছে। এই দেশে টাকা হলে আপনি ধর্ষক হোন, খুনী হোন, পার পেয়ে যাবেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *