ঢাকা: ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে। আর কত মৃত্যু হলে আমাদের ঘুম ভাঙবে?
খুলনা তো এখন মৃত্যুর শহর। পরিস্থিতি ভয়াবহ ও হাতের নাগালের বাইরে। যারা বাস করছেন তাঁরা জানেন কতটা কষ্ট।

একজন সংকটাপন্ন রোগীর জন্য একটি ICU বেডের ব্যবস্থা করা যাচ্ছেনা। সাধারণ বেড থেকে শুরু করে কেবিন তো স্বপ্ন।

হাসপাতালে গিয়ে নিজের চোখে না দেখলে হয়তো বিশ্বাসই করা যাবে না যে পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হতে পারে। কেবিন নেই, সাধারণ বেড নেই, ICU তো সোনার হরিণ! ডেঙ্গু রোগীর চাপে হাসপাতালগুলো কার্যত হিমশিম খাচ্ছে।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর একটা বিষয়ের সমাধান ওরা করতে পারেনি। দিনকে দিন সমস্যা বেড়েই চলছে। মানুষ তো পাগল হয়ে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যও পরিস্থিতির ভয়াবহতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ডেঙ্গু শুধু একটি রোগ নয়—এখন এটি মানুষের জন্য বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট।মশকনিধন কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি মানুষের জীবন রক্ষার দায়িত্ব।

চলতি বছর দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর পেছনে আবহাওয়ার পরিবর্তন, মশার অতিরিক্ত ঘনত্ব এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক ঘাটতি প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে।

আগস্ট থেকে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। যা আগামী অক্টোবর-নভেম্বর পর্যন্ত আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতি চার বছর পর পর ডেঙ্গুর মহামারি ঘটে, ২০২৩ সালে সর্বশেষ ডেঙ্গুর মহামারি হয়েছিল। এ বছরের শেষের দিকে সেটা আবারও হতে পারে।

এই ধাক্কা সামলাতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, ‘অক্টোবরে ডেঙ্গুর বড় ধাক্কা সামলাতে এখনই নামতে হবে। এই সম্ভাব্য মহামারি ঠেকাতে এখন থেকেই সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থল ও বাসাবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি দেশ জুড়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গত রবিবার জাতীয় সংসদের জেনারেল ওসমানী গেটে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এ আশঙ্কার কথা জানান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশা নিয়ন্ত্রণে কেবল গতানুগতিক ‘ফগিং’ বা ধোঁয়া ছিটানোর পদ্ধতি কার্যকর হচ্ছে না। ডেঙ্গু প্রতিরোধে বৈজ্ঞানিক উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে লার্ভা ধ্বংস করার সমন্বিত উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।

ডেঙ্গু এখন আর কেবল রাজধানী ঢাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যাতায়াত ব্যবস্থা ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের কারণে এটি দ্রুত দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত বলেন, বিগত তিন-চার বছরের তথ্য-উপাত্ত এবং এপিডেমিওলজিক্যাল বিশ্লেষণ করে আমরা দেখেছি যে, বৃষ্টির ধরন, উষ্ণ তাপমাত্রা ও সার্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই সাধারণত ডেঙ্গুর পিক টাইম আসে। তাই এখনই প্রতিরোধ জোরদার না করলে আগামী মাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যেতে পারে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে যুক্ত করার ঘোষণা করে তিনি বলেন, সরকারি কর্মীদের পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউটস, গার্লস গাইডসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে দু-এক দিনের মধ্যেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন শুরু করা হবে।

বিশেষ করে ঢাকা শহরের অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে কর্মীদের প্রবেশে সীমাবদ্ধতা থাকায় অ্যাপার্টমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও নাগরিকদের ব্যক্তিগতভাবে সচেতন হতে হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *