পিরোজপুর: রাজাকার সাঈদীর মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর বিরুদ্ধে জামায়াতের দাবিগুলো শুনলে আপনার মনে হবে ‘হ্যাঁ এটাই জামাত’! জামাত তো এটাই।
মানিক পশারী নাকি টাকার বিনিময়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।
অথচ মুক্তিযোদ্ধা পশারীর ঘর টিনের। টাকার বিনিময়ে সাক্ষী দেয়া ব্যক্তির তো ছাদ পেটানো বাড়ি থাকা উচিৎ?
আর তাঁর মেয়ে ও বোনকে দেখেছে সারা দেশ। তাঁদের চেহারা, পোশাক-আশাক আর জীবনযাপনের চিত্রেই স্পষ্ট অভাব ও টানাপোড়েনের ছাপ।
টাকার বিনিময়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগ কতটা বিশ্বাসযোগ্য, তা ছবিতেই স্পষ্ট।
মধ্যরাতে মোবাইল ফোনের আলো জ্বেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর কবর খুঁড়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এতটা নির্লজ্জ হয়েছে বাংলাদেশ, যেখানে একজন মুক্তিযোদ্ধার কবরে পর্যন্ত বাধা দেয়া হয়!
পিরোজপুরের মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর লাশ দাফন, জানাজা এবং গার্ড অব অনার নিয়ে জামায়াত যা করেছে এটা মূলত জামায়াতের আদি এবং চিরকালীন পরিচয়।
মানিক পশারীর লাশ দাফনে বাধা দেয়া, মানুষকে জানাজায় অংশ নিতে বাধা দেয়া, এমন কোন হেন বিষয় নেই যা তারা করেনি।
মানিক পশারীর দোষ তিনি কুখ্যাত নরঘাতক দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার বাদী ছিলেন। যে সাঈদী পিরোজপুরকে শ্মশান বানাতে চেয়েছিল।
এই শাস্তি এখন শুধু না, ২০১২ সালেই সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলার বাদী হওয়ায় হত্যার হুমকি পেয়েছিলেন মানিক পশারী।
তিনি মারা যাওয়ার পরেও যে আচরণ জামাত করলো, এটাই জামাত।
জামাত নেতাকর্মীরা বলেছিল ‘মানিক পশারীর লাশ পিরোজপুরের মাটিতে দাফন করতে দেয়া হবেনা।
অথচ পিরোজপুরে তখন শেখ হাসিনার আমলেই নির্বিঘ্নে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে সাঈদীর জানাজা হয়েছিল। কেউ বিন্দুমাত্র বাধা দেয়নি।
দেশটায় পচন ধরেছে। ক্ষমা করে দিও হে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী।
এদিকে, পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী বলেন, পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর লাশ দাফন বা জানাজায় কোনো বাধা দেওয়া হয়নি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১১টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এতবড় মিথ্যা কথা জানান তিনি।
পোস্টে তিনি লেখেন, লাশ দাফনে বা জানাজায় কোনো বাধা ছিল না, জনগণের আপত্তি ছিল ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানে— যা রাষ্ট্রীয় মর্যাদার অবমাননা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বিতর্কিত ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পোষ্য ও সুবিধাভোগী দালাল কুখ্যাত মানিক পশারী আজ দিনের কোনো একসময় গোপালগঞ্জের একটি হাসপাতালে মারা যায়।
মৃত্যুর পর তাকে পিরোজপুরে আনা হয় এবং তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানের চেষ্টা করা হয়। জনগণ বিষয়টি জানতে পেরে তাকে কথিত ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানে বাধা প্রদান করে এবং কুখ্যাত মানিক পশারী যে মুক্তিযোদ্ধা নন তা প্রশাসনকে অবহিত করেন।
তিনি লেখেন, কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় তিনি ‘গেজেটপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা!’ এরপরও জনগণ একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদানে বাধা প্রদান করে। আমরা জনগণকে শান্ত করেছি, ধৈর্য ধারণ করতে বলেছি। অতীতে আওয়ামী লীগ যেসব অন্যায় করেছে সেসব অন্যায় কোনোভাবেই যেন আমাদের দ্বারা না হয় সে বিষয়ে জনগণকে বুঝিয়েছি।
