টাঙ্গাইল: এইতো শুরু হয়ে গেছে! এখন না মনে হচ্ছে বাংলাদেশে সনাতনীদের দুর্গাপুজো এসেছে! এতদিন মনে হয়নি।

এই দেশে সনাতনীরা কাশফুল, আকাশে নীল রঙের ভেলা, শিউলি এগুলো দেখার আগে দেখে প্রতিমা ভাঙচুর।

প্রকৃতির আগমনী বার্তা দেখার আগে, দেখে মূর্তি ভাঙা। তখন ওরাও অনুভব করে এই এলো পুজো। জামা কাপড় কিনতে হবে।

এমন অবস্থা বাংলাদেশের। এই দেশটা একদম পচে গেছে। কট্টরপন্থী, জঙ্গীতে ভরে গেছে।

প্রতিমা ভাঙচুর শুরু হয়েছে একদম প্রতিবারের মতো।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে রাধা গোবিন্দ মন্দিরসংলগ্ন আর্য সমিতির দুর্গামন্দিরে চারটি প্রতিমা ভাঙচুর করেছে হিন্দু বিদ্বেষী মুসলমানরা।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিষয়টি জানাজানি হয়৷ সকালে মণ্ডপে ঝাড়ু দিতে গিয়ে স্থানীয়রা দেখতে পান, দুর্গা প্রতিমার মাথা, গণেশ ও অসুরসহ মোট চারটি প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের জামুর্কী গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় রাধা গোবিন্দ মন্দিরসংলগ্ন আর্য সমিতির দুর্গামন্দিরে এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান তসলিমা নাসরিন।

তিনি ফেসবুকে লিখেছেন:

“পুজোর আগে আবার প্রতিমা ভাঙচুর বাংলাদেশে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে রাতের অন্ধকারে একটি দুর্গামন্দিরের চারটি প্রতিমা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। যে মানুষগুলো উৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, সকালে তাঁদের দেখতে হলো ভাঙা প্রতিমা। তাঁদের আনন্দের জায়গায় ঢুকিয়ে দেওয়া হলো ভয়।

প্রতিমায় আঘাত মানুষের নিরাপত্তাবোধেও আঘাত করে। যে শিশুটি পুজোর অপেক্ষায় ছিল, তাকে কেন নিজের দেশেই আতঙ্ক নিয়ে বড় হতে হবে?

একজন হিন্দুকে কেন ভাবতে হবে, তাঁর উৎসব নির্বিঘ্নে শেষ হবে তো? নিজের বিশ্বাস নিয়ে, নিজের সংস্কৃতি নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য তাঁকে কতবার নিরাপত্তা চাইতে হবে?

এই ঘটনায় হামলাকারীদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। প্রশাসন পাহারা বসিয়েছে, পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে। কিন্তু সরকারের দায়িত্ব ঘটনাস্থল পরিদর্শন আর আশ্বাস দেওয়াতেই শেষ হয় না।

অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে, তদন্তের অগ্রগতি জানাতে হবে, পরবর্তী হামলা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

হিন্দুবিদ্বেষের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। ধর্মের নামে অন্যের উপাসনালয় ধ্বংস করার মানসিকতাকে প্রশ্রয় দিয়ে সম্প্রীতির বক্তৃতা দেওয়া অর্থহীন।

যে উগ্রবাদ মানুষকে শেখায় অন্যের প্রতিমা ভাঙা পুণ্যের কাজ, সেই উগ্রবাদী শিক্ষাকেও প্রশ্ন করতে হবে। নিজের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা চাইলে অন্যের সেই একই স্বাধীনতা স্বীকার করতে হবে।

বাংলাদেশের হিন্দুরা এই দেশের সমান অধিকারের নাগরিক। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সরকারকে জবাব দিতে হবে। বিচারহীনতা চলতে দিলে অপরাধীরা আরও সাহস পায়, আক্রান্ত মানুষের রাষ্ট্রের ওপর আস্থা আরও কমে ।

ভাঙা প্রতিমা আবার গড়া যায়। কিন্তু নিজের দেশে নিরাপদ থাকার বিশ্বাসটি ভেঙে গেলে তা জোড়া লাগানো কঠিন। সরকার সেই বিশ্বাস ফিরিয়ে দিক— অপরাধীদের বিচার করে, হিন্দুদের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। পুজোর অপেক্ষা যেন আনন্দের অপেক্ষাই হয়। আতঙ্কের নয়”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *