গাজীপুর: আজকের অবস্থা আরো ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। মূলত সরকারের উচিৎ দ্রুত সিদ্ধান্তে যাওয়া। কিন্তু তাদের সেইসব কোনো লক্ষণ দেখা‌ যাচ্ছে না। উল্টো খেপিয়ে তুলছেন শ্রমিকদের। আর তারাও এখানে ওখানে আগুন লাগিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ধ্বংস করছে।

তারেক রহমানের পুলিশ প্রশাসনও শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে।

বেতন না বাড়িয়ে শ্রমিকদের আন্দোলনের সাথে তামাশা করে একের পর এক গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে, গাজীপুরে শ্রমিক আজ পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

অন্যদিকে চাপে পরে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। গেজেট প্রকাশের অপেক্ষায়।
সন্তোষজনক মজুরি না হলে আন্দোলন চলমান থাকবে বলে হুংকার শ্রমিকদের।

পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুরের কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর শিল্পাঞ্চলে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা।

এ সময় কোনাবাড়ী এলাকায় একটি ট্রাফিক পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।

এতে সেখানে দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

আর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা বাইপাস থেকে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি, অন্যান্য দাবি নিয়েই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

গাজীপুর জেলা প্রশাসনের ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা, সফিপুর এলাকা, কোনাবাড়ী ও মৌচাক এলাকা, নাওজোড় এলাকা এবং ভোগড়া বাইপাস এলাকায় বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. তাহেরুল হক চৌহান বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ উপায়ে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছি। তবে দাবি আদায়ের নামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আশপাশের আট থেকে ১০টি কারখানায় আজকের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বেশ কিছুদিন ধরেই শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে বেতন বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন শ্রমিকেরা।

এবং আজ সকালেও শ্রমিকেরা প্রথমে নিজেদের কারখানায় প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর কাজ বন্ধ করে তাঁরা বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নেমে পড়েন।

লাঠিসোঁটা হাতে হাজার হাজার শ্রমিক মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *