ঢাকা: উত্তপ্ত বাংলাদেশ। আবারো আন্দোলনের নামে সহিংসতা ছড়াচ্ছে। মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকরা ব্যাপক সহিংস বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন।
দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানিমুখী এই শিল্পে শ্রম অসন্তোষের জেরে মহাসড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর এবং কারখানায় অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটেছে।
এমন পরিস্থিতিতে নেতা মন্ত্রীরা এই সহিংসতার পেছনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ এবং “সীমান্তের ওপারে” থাকা শক্তির উস্কানিতে দায়ী করেছেন।
তবে এর প্রমাণ দেখাতে তাঁরা পারেননি। বরং খবর আছে আন্দোলনের ভিতরে ঢুকেছে জামাত, রাজাকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা শ্রমিক আন্দোলনের নামে শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কাজে, আইনশৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে সচিবালয়ে বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ঠিক করতে গঠিত মজুরি বোর্ড সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করবে। দুই-এক দিনের মধ্যেই তারা বৈঠকে বসবে।
তিনি জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি-মন্ত্রীরা যেসব গার্মেন্টসের মালিক, তারা পোশাক খাতে অস্থিরতা তৈরির ষড়যন্ত্র করছে। তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা কারখানা বন্ধ করেছে ও পরিকল্পিত অস্থিরতা সৃষ্টি করছে, সেসব মালিক ও শ্রমিকদের নামের তালিকা সরকারকে দেবে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।
অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, শেখ হাসিনা থাকাকালীন দেশের এই হাল হয়নি। হাজার হাজার কারখানা বন্ধ হয়েছে শেখ হাসিনাকে সরানোর পরেই।
উল্লেখযোগ্য যে, গুরুত্বপূর্ণ পোশাক উৎপাদন খাতের শ্রমিকরা তীব্র আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। সোমবার বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীরা বেশ কয়েকটি মহাসড়ক অবরোধ করেন।
এ সময় পুলিশের গাড়ি সহ অসংখ্য যানবাহন ভাঙচুর, পুলিশের সাথে সংঘর্ষ, একটি গুদামে অগ্নিসংযোগ এবং কারখানায় ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এর ফলে দেশের একটি বড় অংশের পোশাক উৎপাদন কারখানা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। ভারতে নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণার ঠিক আগেই এই সহিংস আন্দোলনের সূত্রপাত হলো।
একদিকে হু হু করে বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি, অন্যদিকে স্থবির মজুরি—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে শ্রমিকরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন।
