ঢাকা: আদ-দ্বীন হাসপাতালের ঘটনা সারা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এমনিতেই হামে প্রতিদিন মৃত্যু আছেই। তাঁর মধ্যে আচমকা সদ্যজাত ছয়টি শিশুর মৃত্যুর খবর মানুষকে ভারাক্রান্ত করে ফেলেছে।
কিন্তু ভারাক্রান্ত করলেও সেটা মনেই চেপে রাখতে হবে, অথবা হয়তো এক দুইবার প্রতিবাদ মিছিল হবে। কিন্তু এইসবে সরকারের টনক নড়েনা।
এখনো একটাও গম্ভীর, যৌক্তিক শব্দ শোনা গেছে সরকারের পক্ষ থেকে? শুনবেন না। কারণ ওরা কাজ করার জন্য চেয়ারে বসেনি।
জানা গিয়েছে, একটি ওয়ার্ডে ১৫টির মতো শিশু ছিলো। সুস্থ সবল সদ্য জন্ম নেওয়া ০-২দিনের শিশু। এদের অনেককেই এক দুইদিনের মধ্যে রিলিজ করার কথা ছিলো।
অভিভাবকদের ভাষ্যমতে, রাত ১২টার পর থেকেই প্রতিটি শিশুই প্রচণ্ড কান্না করতে থাকে। থামছিলোই না। পাশাপাশি শিশুদের মায়েরাও অসুস্থ হয়ে পড়ে। পুরো ওয়ার্ড জুড়ে কান্নাকাটি শুরু হয়ে যায়। একেরপর এক শিশু বমি করা শুরু করে। এসময় ওয়ার্ডে নাকি নার্সদেরকেও পাওয়া যায়নি। ডাকলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।
তাঁরা নাকি ওয়ার্ডের বাইরে নিশ্চিন্তে মোবাইল টিপছিলেন। কেউ কেউ ঘুমাচ্ছিলেন। রোগীর দিকে কারো হুঁশ নেই।
সদ্য মায়েরা কী করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না।
ভোরের দিকে তো একের পর এক শিশু মারাই যায়।
একজন মা লিখেছেন ফেসবুকে,’ ২০২১ সালে মগবাজার আদ দ্বীনে আমার মেয়ে জন্ম নিয়েছিলো। সেদিন একটি পোস্ট করে বলেছিলাম, আমার শত্রুও যেন মগবাজার আদ দ্বীন হাসপাতালে বাচ্চা ডেলিভারির জন্য না যায়’।
এদের যদি আইনের আওতায় না আনা হয়, তাহলে এরকম আরো ঘটবে, এটা নিশ্চিত।
রাজধানীর মগবাজারের আদ্–দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডের ভেন্টিলেশনে ত্রুটি নাকি পেয়েছে সরকারের তদন্ত কমিটি।
এতে করে ওই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম ও গুরুতর গাফিলতি আছে বলে মনে করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
শুক্রবার (২৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আগামিকাল শনিবার (৩০ মে) এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়া যাবে।
