ঢাকা: মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়ে যাচ্ছে বিদেশে, তারপর জানতে পারে বাংলাদেশ সরকার। সেটাও আবার নিউজ দেখে! ভাবুন, এই সরকারকে কোন চোখে দেখে বিশ্ব।

সৌদি আরবের মক্কা নগরীর একটি মসজিদে ‘অনৈতিক’ কাজ করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর আবার পেয়ে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ।

ব্যাখ্যা চেয়ে কী হবে?

এ বিষয়ে বাংলাদেশের কাছে ব্যাখ্যা দিতে দেশটি আইনত কতটা বাধ্য এবং ওই দুই বাংলাদেশির মরদেহ বাংলাদেশে কিভাবে কোন প্রক্রিয়ায় আসবে কিংবা আদৌ আসবে কি-না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।

জেদ্দায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, ওই দুজনের আটক, বিচার ও শাস্তি কার্যকরের বিষয়ে কোনো তথ্যই সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাসকে অবহিত করেনি। করার প্রয়োজনই মনে করেনি।

একটি তথ্য জানিয়ে রাখি:

২০১০ সালে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় বাংলাদেশি শ্রমিককে মুক্ত করতে মোট ৯৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা “ব্লাডমানি” দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। পরে তারা মুক্তি পেয়ে ফিরে আসেন।

অথচ…!? মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরও নাকি বাংলাদেশ বিন্দুমাত্র জানে না। বাঁচাতে যাবেতো দূরের কথা।

বিশেষ করে মৃত্যুদন্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশী কনসুলেট বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই বিষয়ে কিছুই জানত না।

প্রবাসী নাগরিকদের জীবন রক্ষায় তাহলে সরকারের ভূমিকাটা‌ কী? সরকার কী করে? তারেক কী করে? কূটনৈতিক তৎপরতা কতটুকু?

প্রবাসী বাংলাদেশিদের মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। তবে বিদেশের আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশিদের মুক্ত করতে অতীতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার নজির তো আছে। চেষ্টা তো আছে। তাঁদের জন্য চিন্তা তো আছে।

এইসব না থাকায় সৌদি আরবে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে।

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশি কনস্যুলেট বা পররাষ্ট্রও মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে কিছুই না জানা বিষয়টা আরো সন্দেহের।

২০০৭ সালের মৃত্যুদণ্ডের সাজাঃ ২০১০ সালে মুক্তি পান ছয় বাংলাদেশি

২০১০ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০০৭ সালে এক পাকিস্তানি নাগরিককে হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় বাংলাদেশি শ্রমিককে মুক্ত করতে বাংলাদেশ সরকার ৯৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্লাডমানি পরিশোধ করে।

তৎকালীন সংসদ সদস্য মঈনউদ্দীন খান বাদলের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রম মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, ইসলামিক শরিয়াহ আইন অনুযায়ী, নিহতের পরিবার যদি হত্যাকারীদের ক্ষমা করতে রাজি হয়ে যায়, তবে রক্তপণ বা ‘দিয়াহ’ বলে, এটি পরিশোধের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করা সম্ভব। এটাকে বলে ব্লাড মানি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে ব্লাড মানি হিসেবে ৯.৫৭ মিলিয়ন টাকা (প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার মার্কিন ডলার) পরিশোধ করা হয়। এবং শ্রমিকরা মুক্ত হন।

বিষয়টা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই এখন খুব চর্চা হচ্ছে। তারেক রহমান সরকারের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *