মিরপুর: মিরপুরের পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।

সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে এবং অর্থদণ্ডও দেয়া হয়েছে। এবং মৃত্যুদণ্ড যাতে দ্রুত কার্যকর হয় তার কথাও বলেছেন রামিসার বাবা।

নির্মমভাবে শিশু রামিসাকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন নিজেদের বাঁচার আকুতি নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। সাজা মওকুফের আশায় তারা জেল আপিল দায়ের করেছেন।

রবিবার (১৪ জুন) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে শুনানির সময় প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজেকে ‘নেশাগ্রস্ত’ দাবি করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি স্বীকার করেন, নেশার ঘোরে নাকি তিনি এই জঘন্য কাণ্ড ঘটিয়েছেন।

গত ৭ জুন ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল এই দম্পতিকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দিয়েছিলেন। রায়ে বলা হয়, মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত আ-সামিদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।

দায়ের করা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের করা জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট।

আজ, রবিবার হাইকোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে আবেদন দুটি গ্রহণ করে আদেশ দেন।

আপিলের বিষয়টি গ্রহণযোগ্যতার শুনানির জন্য সোহেল রানার করা জেল আপিলটি ৩৪ নম্বরে ও স্বপ্না আক্তারের আবেদনটি কার্যতালিকার ৩৫ নম্বর ক্রমিকে ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সেটির শুনানি হয়।

এর আগে শিশু হত্যায় আসামিদের সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণের) সমস্ত নথি হাইকোর্টে এসে পৌঁছায়।

৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা মোতাবেক আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। আর ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা মোতাবেক হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *