ঢাকা: বাউল সম্প্রদায় একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। তাই তারাও নিয়মিত শিকার হচ্ছে মৌলবাদী আক্রমণের। যেমন হিন্দু, বৌদ্ধ বা খৃষ্টানরা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু।
ধর্মের নামে জঘন্য কারবার চলছে দেশে। বাউলের দেহ কবর থেকে উঠিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার মতো ঘৃণ্য কাজটাও এই দেশেই হয়েছে।
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় একটি বাউল গানের আসরে ‘নারায়ে তকবির’ স্লোগান দিয়ে জঙ্গীরা হামলা চালিয়েছিলো। মনে আছে নিশ্চয়ই।
জামাত শিবির এইসব হামলার পেছনে কাজ করছে। আর নাম দিচ্ছে তৌহিদি জনতা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা ‘নারায়ে তকবির’ স্লোগান দিয়ে মঞ্চ ও বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুর করে।
হামলাকারীরা ‘নারায়ে তকবির, আল্লাহু আকবর’ এবং ‘ইসলামের শত্রুরা, হুশিয়ার সাবধান’—এমন নানা ধর্মীয় স্লোগান দিয়ে প্যান্ডেলে প্রবেশ করে সব ভেঙে ফেলে। এইসব কিসের ইঙ্গিত?
এবার কিছুটা কি নড়েচড়ে বসলো সরকার? নাকি এগুলোও লোকদেখানো?
হিন্দু সন্ন্যাসী ও বাউল-ফকিরদের উপর হামলা, উপাসনাস্থল আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগে এবার তদন্তের নির্দেশ দিল ঢাকা হাই কোর্ট।
সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো তদন্ত করে ৬০ দিনের মধ্যে আদালতে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শককে। এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ আদেশে আদালত আরও জানতে চেয়েছেন, বাউল, ফকির ও সন্ন্যাসীদের সাংবিধানিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের ব্যর্থতাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না।
এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রসচিব, ধর্মসচিব, সংস্কৃতিসচিব, আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গত ২১ জুন বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রিটকারীদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মমতাজ, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জাহিদুল ইসলাম (জনি) এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জাকির হোসাইন, মো. হুমায়ুন কবির সিদ্দিকী, মো. তানভীর প্রধান ও শারমিন হামিদ।
রিট আবেদনে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাউল, ফকির ও সুফি অনুসারীদের ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলা, আখড়া ও মাজারে ভাঙচুর, ধর্মীয় চর্চায় বাধা এবং গান পরিবেশনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো ঘটনা ঘটছে।
শুধু তাই নয়, বহু বাউল ও ফকিরের চুল ও জটা জোরপূর্বক কেটে দিয়ে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং মানবিক মর্যাদায় আঘাত করা হয়েছে।
আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, উগ্র মতাদর্শে বিশ্বাসী কিছু গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এসব নির্যাতন চালিয়ে আসছে। অথচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় এ ধরনের হামলা ও নিপীড়নের ঘটনা বেড়েই চলেছে।
রিটকারীদের ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বাউল ও সুফি অনুসারীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে, যা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সহিংসতাকে আরও উসকে দিচ্ছে।
