গোপালগঞ্জ: দেশে হিন্দুদের জানেপ্রাণে মারা, জমি দখল, ব্যবসার জায়গা দখল – হিন্দু বিদ্বেষীদের দখলদারি চলছেই।
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বড় ভাটরা গ্রামে “নয়ন এন্টারপ্রাইজ” নামক একটি জিআই স্বীকৃতি পণ্য সিটি গোল্ডের ফ্যাক্টরিতে অনধিকার প্রবেশ করে ভাঙচুর করে, মহিলাদের শ্লীলতাহানি করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, প্রায় ২৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নীলকন্ঠ মন্ডল বাদী হয়ে মুকসুদপুর থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলা দায়ের করলেই কী হবে? এই দেশে হিন্দু বিদ্বেষী কট্টরপন্থীদের বিচার হবে না। গ্রেপ্তার হলেও হতে পারে, সেসব লোক দেখানো।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে এই ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে মুকসুদপুর থানা পুলিশ। পুলিশ আসামি গ্রেফতারের পর মামলা তুলে নিতে বাদির বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে আসামিদের আত্মীয় পরিচয়দানকারী নাসির নামক একজন।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন লেখক তসলিমা নাসরিন।
তিনি তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে লিখেছেন:
“যে মুসলমানেরা হিন্দুদের হুমকি দিচ্ছে, জমি দখল করছে, দেশ ছাড়তে বলছে, সরকার কি তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থাই নেবে না কোনওদিন?
নিজের বাড়িতে নিরাপদে থাকার জন্যও কি হিন্দুদের অপরাধীদের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে? সরকার কাদের নিরাপত্তা দেবে—নির্যাতিত নাগরিককে, না নির্যাতনকারীকে?
পাড়ার, গ্রামের, শহরের অসাম্প্রদায়িক মুসলমানেরা কোথায়?
তাঁরা কি একজোট হয়ে এই হিংস্র, বর্বর, হিন্দুবিদ্বেষী মুসলমানগুলোর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারেন না? আক্রান্ত প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়াতে পারেন না? জমি দখল ঠেকাতে, হুমকির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে, অপরাধীদের শাস্তির দাবি তুলতে পারেন না? তাহলে তাঁদের অসাম্প্রদায়িকতা মানুষের কোন কাজে লাগে?
হিন্দুরা এ দেশের সমান অধিকারসম্পন্ন নাগরিক। তাঁদের দেশ ছাড়তে বলার স্পর্ধা কী করে হয়? দেশটাকে নরক বানাচ্ছে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীরা। সরকার যদি তাদের অবাধে অত্যাচার করতে দেয়, তবে সেই নরক তৈরির দায় সরকারেরও। আর যাঁরা অন্যায় বোঝেন, অথচ চুপ করে থাকেন, তাঁরা ভেবে দেখুন —তাঁদের নীরবতায় কাদের সাহস বাড়ছে”।
ভুক্তভোগী নীলকন্ঠ মন্ডল জানায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর সকালে উপজেলার বড় ভাটরা এলাকায় হাসিনা বেগমসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভুক্তভোগী নীল কন্ঠ মন্ডলের স্বত্ব দখলীয় জমি ও সিটি গোল্ডের ফ্যাক্টরিতে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে ফ্যাক্টরি দখলে নিয়ে নেয়।
বিবাদীরা ফ্যাক্টরিতে থাকা সিটি গোল্ড তৈরির মেশিন, জেনারেটর, কাঁচামাল, কেমিক্যাল ও আসবাবপত্রসহ আনুমানিক ২৫ লক্ষধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
