নেত্রকোনা: রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হাসপাতাল। হাসপাতালে চলে ভাঙচুর কাণ্ড।
বাস্তবতা হচ্ছে, এই দেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে যেমন চরম গাফিলতি আছে, ঠিক তেমনি চিকিৎসকের দোষ না থাকলেও মব করার জন্য রেডি হয়েই থাকে একদল। দেশটা সভ্য হয়নি এখনো।
জ্বরের ওষুধের জন্য এলে দেখা গেছে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দিয়ে দিচ্ছে। এরকম প্রচুর ভুল চিকিৎসার উদাহরণ এই দেশে আছে। ফলে চিকিৎসকের সাথে রোগী বা পরিব রেল যে বিশ্বাসের সম্পর্ক থাকে সেটা এই বাংলাদেশে নেই।
এবার চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ এনে এক রোগীর মৃত্যু ঘটনাকে কেন্দ্র করে নেত্রকোনায় জেলা সদর হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
মৃত রোগীর ক্ষুব্ধ আত্মীয়রা ও স্থানীয়রা হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালান। পরে পুলিশ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
রবিবার (১২ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ঘটনাটি ঘটে। মৃত রোগীর নাম সজীব মিয়া।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, রবিবার সন্ধ্যায় গ্যাসের ব্যথা নিয়ে সজীবকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও বিদ্যুৎ না থাকার অজুহাতে দায়িত্বরত চিকিৎসক যথাযথ চিকিৎসা দিতে অবহেলা করেন। একপর্যায়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই সজীবের মৃত্যু হয়।
এই সামান্য ব্যথাতেই মৃত্যু! বিষয়টা আশ্চর্যজনক বটে।
সজীবের মৃত্যুর খবর পেয়েই লোকজন হাসপাতালে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
হুলুস্থুলের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে, নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাজহারুল আমিন মুঠোফোনে বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে বিদ্যুৎ ছিল না। জেনারেটর দিয়ে কার্যক্রম চলছিল।
হার্ট অ্যাটাক নিয়ে সজীব নামের এক রোগী এলে চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জরুরি তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। রোগীর সঙ্গে দুজন নারী ছিলেন।
তারা রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে নিয়ে যাওয়ার আগেই তিনি মারা যান। পরে রোগীর উত্তেজিত স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর করেন।
