ঢাকা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, ‘আমি দুই বছর ধরে কারারুদ্ধ আছি। গত এপ্রিল মাসে আমার জামিন আবেদন করা হয়েছে। এখন আমি জামিন চাই না। আমি জামিন আবেদন প্রত্যাহার করতে চাই।’
দীপু মনি বলেন, ‘এর আগে জামিন আবেদন শুনানির সময় ট্রাইব্যুনাল বলেছিলেন, বাসায় গিয়ে কী করবেন? এখন আমার আর বাসায় যাওয়ার দরকার নেই। আমার স্বামী তৌফিক নেওয়াজ সাত বছর শয্যাশায়ী ছিলেন। তাঁর বাকশক্তিও ছিল না। কোনো কথা বললে চোখের পলক ফেলে উত্তর দিতেন তিনি।
আমি পাঁচ বছর সরকারি দায়িত্বপালনের সময় শয্যাশায়ী স্বামীর যত্ন নিয়েছি। এ অবস্থায় বাড়ি ছেড়ে আমার স্বামীকে দু্ বছর অজ্ঞাত স্থানে থাকতে হয়েছে। আশ্রিত অবস্থায় ছিলেন। আমিও যত্ন নিতে পারিনি। এ জীবন তিনি মেনে নিতে পারেননি।’
স্বামী তৌফীক নাওয়াজের মৃত্যুর সময়ই স্ত্রী দীপুমনি কাছে থাকতে পারেননি। মৃত্যুশয্যায় না থাকলে আর এখন কী করবেন?
এখন আর বাড়ি ফেরার তাগিদ অনুভব করছেন না জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে নিজের জামিন আবেদন প্রত্যাহার করতে চেয়েছেন কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেত্রী ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় বৃহস্পতিবার তাঁকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ হাজির করা হয়। এ দিন তাঁর জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে জামিন শুনানি শুরুর আগে কথা বলার অনুমতি চান দীপু মনি। ট্রাইব্যুনাল অনুমতি দেয়ার পর এজলাসের কাঠগড়ায় থাকা মাইক্রোফোনে কথা বলেন তিনি।
আদালতকে দীপু মনি তখনই বলেন, “আমি দুই বছর ধরে কারারুদ্ধ আছি। গত এপ্রিল মাসে আমার জামিন আবেদন করা হয়েছে। এখন আমি জামিন চাই না। আমি জামিন আবেদন প্রত্যাহার করতে চাই”।
উল্লেখযোগ্য যে, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির স্বামী তৌফীক নাওয়াজ গত ১৮ অগাস্ট রাতে মারা যান। এর আগে গত ২৬ এপ্রিল দীপু মনির জামিন আবেদন করেছিলেন তাঁর আইনজীবী।
পরে ট্রাইব্যুনাল দীপু মনির জামিন শুনানির জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করে।
