নারায়ণগঞ্জ: “বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম। ওই জায়গা থেকে উনি (ওসি) কোন সাহসে এটা (আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে) বললেন। আমি স্ট্রিকলি এখানে আসছি। আমরা এতগুলা ছেলে ভাইসা আসছে নাকি”?

মাহদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, হবিগঞ্জ জেলা শাখা।

মনে আছে তো সেই হুমকির কথা বলা মাহদীকে?

এদের হাতেই নির্মমভাবে হত্যা হয়েছে পুলিশ। ২০২৪ এ থানা পোড়ানো হয়, ভাঙচুর, জঙ্গী কার্যকলাপ সব এই জঙ্গীদের হাতে হয়েছে।

এবার আরো এক হুমকি শোনা গেলো। সেই জঙ্গী এনসিপির নেতার কাছ থেকেই এলো হুমকি। থানার ইট খুলে ফেলার হুমকি।

এখন তো দেশের শাসকদল রীতিমতো কোণঠাসা। যুবদলের নেতাকে অপহরণ করে মেরে ফেলছে- সব বুমেরাং হচ্ছে বিএনপির ওপর এখন।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নিজের দলের কর্মীর উপর বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ এনে ‘আর কোনো কর্মীর ওপর হামলা হলে থানার ইট খুলে নেওয়া’র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির আহ্বায়ক যুবাইর সরদার।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ফতুল্লা মডেল থানার ভেতরে ওসির কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে তাকে এই হুমকি দিতে দেখা যায়।

তার হুমকি সম্বলিত ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে৷

ভিডিওতে ক্রুদ্ধ কণ্ঠে এনসিপি নেতা জুবাইর বলছেন, “আমি যুবাইর সরদার, নারায়ণগঞ্জ এনসিপির আহ্বায়ক। যদি আমার একটা কোনো কর্মীর গায়ে হাত তোলে, লাশের বদলে লাশ নিবো। আমার একজন নেতাকর্মীর গায়ের রক্ত পড়ে আরেকবার, থানার ইট পর্যন্ত খুলে নেবো।”

বুঝলেন তো? সেই সেকেণ্ড মাহদী চলে আসছে আবারো পুলিশের লাশ ফেলতে! বিএনপি ঘরে বসে; এটাই হওয়ার ছিলো। কর্ম ফিরে আসে।

এই ধরনের বক্তব্যকে ‘ভালো চর্চা নয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম৷

জুবাইরের ওই বক্তব্যের সময়ে ওসি থানায় নিজ কক্ষেই ছিলেন বলেও জানান৷

ওসি বলেন, “এই ধরনের বক্তব্য কেউ দিয়েছে কিনা আমি শুনিনি, তখন আমি ভেতরে ছিলাম। কিন্তু এমন দেয়া হলে তা তা ভালো চর্চা নয়। ওনারা দায়িত্বশীল পদে অবস্থান করে এইভাবে থানার ভেতরে বক্তব্য রাখতে পারেন না।”

তিনি বলেন, “এ ধরনের বক্তব্যের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে যদি কোনো ব্যত্যয় ঘটে, তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *