পিরোজপুর: পিরোজপুরের ৮৭ বছর বয়সী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী মারা যাওয়ার পর তাঁর মরদেহ নিজের গ্রামে আনা হয় দাফন করার জন্য। কিন্তু মরদেহ গ্রামে আনার পরই শুরু হয় ঝামেলা। ঝামেলা শুরু করে জামাত।

রাজাকার জামাতের গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, বাংলাদেশ বিরোধী। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে তাঁদের ষড়যন্ত্র কোনোদিন শেষ হবে না।

মানিক পশারী ছিলেন রাজাকার জামায়াত নেতা ও সাবেক এমপি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ৬ নম্বর সাক্ষী।

আর জামাতের জ্বালা সে জায়গাতেই।

এবার বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারির দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

এই ঘটনাকে মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা, আত্মত্যাগ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি চরম অসম্মান বলে উল্লেখ করেন তাঁরা। তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শনাক্ত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১১টায় সুনামগঞ্জ শহরে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সকালে শহরের জেল রোড এলাকা থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আলফাত স্কয়ারে গিয়ে শেষ হয়।

সেখানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মুক্তিযোদ্ধা আলফাত উদ্দিন স্কয়ারে (ট্রাফিক পয়েন্ট) সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ছাতক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার তোতা মিয়া বলেন, “আপনি আমাদের সেক্টর কমান্ডারের ছেলে। দেশকে স্বাধীনতাবিরোধীদের থেকে রক্ষা করতে না পারলে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে দেশ ছেড়ে দেন।”

তিনি বলেন, “আমরা এখনো জীবিত আছি। আমরা এই বাংলাদেশকে স্বাধীনতাবিরোধীদের কাছ থেকে টিকিয়ে রাখতে পারব।”

তোতা মিয়া বলেন, “আমরা বঙ্গবন্ধু ও জিয়াউর রহমানের রণাঙ্গণের সৈনিক। যারা ২৪-কে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ বলে তাদের কাছে জানতে চাই, তারা জাতিকে কোন পতাকা, কোন ভূখণ্ড দিয়েছে? মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আড়াল করতেই তারা চব্বিশকে সামনে নিয়ে এসেছে।”

জামায়াতে ইসলামির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী এই দলটির সংসদের প্রতিনিধিত্ব জাতির জন্য লজ্জার। তাদের উপস্থিতি সংসদকে কলঙ্কিত করেছে। এখন তারা আমাদের স্বাধীন করা দেশে আমাদেরকেই অপমানিত করছে।”

বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে অসীম সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছেন। তাঁদের অবদান কোনোভাবেই অস্বীকার করার সুযোগ নেই। অথচ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর তাঁর দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক।

একজন মুক্তিযোদ্ধার শেষ বিদায়টুকুও যদি সম্মানজনকভাবে নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে তা জাতির জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

তাঁরা আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা শুধু তাঁদের পরিবারের দায়িত্ব নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমগ্র জাতির দায়িত্ব। জীবদ্দশায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা যেমন সম্মান ও মর্যাদার দাবিদার, মৃত্যুর পরও তাঁর প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কারণে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষ বিদায় বাধাগ্রস্ত হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সমাবেশে বক্তারা মানিক পশারির দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *