ঢাকা: অভিনেতা জাহের আলভীর জামিন হয়ে গেলো! স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরার আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জামিন পেয়ে গেলেন অভিনেতা জাহের আলভী ওরফে মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া।

অথচ ইকরার মৃত্যুর পর তাঁর বান্ধবীরা একে একে খোলাসা করেছেন আলভী কী করতেন তাঁর স্ত্রীর সাথে! এমনকি তাঁর পরকীয়া ছিলো।

অত্যাচার করতেন আলভী তাঁর স্ত্রীকে। এমনও জানা গিয়েছে, আলভী ও তার মা ইকরাকে অপমান করতেন এবং তাঁদের জীবন থেকে সরে যাওয়ার জন্য চাপ দিতেন!

ইকরার পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। প্রায় ২ বছর আগে ইকরা জানতে পারেন, তাঁর স্বামী অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এর পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ বাড়তে থাকে।

আলভী ইকরাকে উদ্দেশ্য করে প্রায়ই উস্কানিমূলক কথা বলতেন—যা তাঁর মানসিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আলভী ফেসবুকেও ইকরাকে নিয়ে উস্কানিমূলক পোস্ট দিতেন।

এত অপরাধের পরেও তাঁর জামিন কী করে হয় এটাই প্রশ্ন!

রবিবার (২ আগস্ট) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন।

এর আগে গত ১৮ জুন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন জাহের আলভী।

শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

পরে গত ২১ জুন মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। গত ২৪ জুন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর শুনানি শেষে তাঁর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাড়ি থেকে ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে সময় ইকরার স্বামী অভিনেতা জাহের আলভী ছিলেন নেপালে। তিথির সাথে ছিলেন তিনি।

কিন্তু স্ত্রী মারা গেছে শুনেও আসেননি শেষ দেখাও দেখতে।

ঘটনায় ১ মার্চ আলভীকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন নিহত ইকরার বাবা। মেয়েকে প্ররোচিত করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন তিনি। মামলায় আলভীর মা এবং পরকীয়া প্রেমিকা তিথিকেও আসামি করা হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *