ঢাকা: জামাতের এই বাংলাদেশের প্রতিই হিংসা, লোভ, আর ক্ষোভ। তারা এই দেশটার জন্মই তো চায়নি, তো দেশটার প্রতি ক্ষোভ থাকবে না? পাকিস্তানি, রাজাকারের শাবকরা তাই মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পরেও প্রতিশোধ নিচ্ছে।
আর স্পষ্ট বোঝা যায়, একসময়ের ভাই বিএনপির এতে পুরো মদদ আছে। তাছাড়া বিরোধী দল এই সাহস পায় কী করে?
বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর ঘটনাটি দেশভক্তদের চোখে পানি এনেছে। তিনি ছিলেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী। সেই ক্ষোভে থেকে পাক জামাত ঘৃণ্য কাজটা করেছে।
রাজাকার সাঈদি তো তাদের গুরু!
৮৭ বছর বয়সে মানিক পশারীর মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় সম্মান ও দাফন নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, কবর খুঁড়েও তা ভরাট করে দেওয়া হয়। জামাত বাধা দেয়।
শেষ পর্যন্ত মধ্যরাতে মোবাইলের আলোয় স্ত্রী, মেয়ে ও বোনদের নিজেদের হাতে কবর খুঁড়ে তাঁকে দাফন করতে হয়েছে।
একবার ভাবুন, একজন মানুষ দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন, আর মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারকে বাবার, স্বামীর, ভাইয়ের কবর খুঁড়তে হয় এইভাবে!
সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনের আশ্রয় ও আইনানুযায়ী আচরণ পাওয়ার অধিকার সবার। রাজনৈতিক বিরোধের কারণে একজন মৃত মানুষের মর্যাদা আর তাঁর পরিবারের শোকের অধিকার কেন সংকটে পড়বে? আর সেটা আবার রাজাকারদের কারণে?
এদিকে ঠাকুর ঘরে কে, আমি কলা খাইনি একটা ব্যাপার হয়ে গেছে জামাতের।
নিজেদের দোষ ঢাকার কত চেষ্টা। অথচ জামাত যতদিন আছে, না থাকলেও তাদের দোষ কোনোদিন ঢাকবে না।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগের তদন্তে এবার দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটির দুই সদস্য হলেন সাইফুল আলম খান মিলন এমপি ও নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি।
নাটক!?
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বিশেষ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তথা সাদা শকুন।
দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পিরোজপুরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনাটি নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এর সঙ্গে জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখবে কমিটি।
