ঢাকা: মধ্যরাতে মোবাইল ফোনের আলো জ্বেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর কবর খুঁড়ছেন তাঁর মেয়ে ও বোন। প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে রাষ্ট্রের নিদারুণ নিষ্ঠুরতার সাক্ষী হলো গোটা বাংলাদেশ। ছিঃ! মুক্তিযোদ্ধার প্রতি আনুগত্য দেখানো তারেক সাহেব কোথায়?
মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর লাশ দাফনে জামাতের বাধা! মধ্যরাতের ঘন অন্ধকারে মোবাইল ফোনের ক্ষীণ আলো জ্বেলে বীর কবর খুঁড়ছেন তাঁরই মেয়ে ও বোন।
যে মানুষটি একদিন দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন, আজ তাঁর পরিবারকে এমন হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে!
এ দৃশ্য শুধু একটি পরিবারের অসহায়ত্বের প্রতিচ্ছবি নয়; এটি রাষ্ট্রের মানবিকতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা নিয়েও গভীর প্রশ্ন তুলে দেয়।
প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁর পরিবারের প্রতি এমন নির্মমতা—গোটা বাংলাদেশের বিবেককে নাড়া দেওয়ার মতো এক মর্মান্তিক বাস্তবতা।
জানা গিয়েছে, রাজাকার মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর লাশ চার ঘণ্টা পরে গোপনে ‘গার্ড অব অনার’ দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে প্রশাসন।
কেন? জামাতকে এত ভয়? এতো পরিষ্কার কাঠের পুতুল হয়ে বসে আছে তারেক রহমান, সরকার চালাচ্ছে জামাত।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় মানিক পশারীর লাশ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে এলে ‘গার্ড অব অনার’ দিতে এবং পিরোজপুরে কবর দিতে বাধা দেয় জামায়াতের নেতারা।
জানা যায়, পরে বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ লাইনসের ভেতরে গোপনে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয়।
মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ছিলেন।
পরিবার জানায়, গত দুই মাস ধরে তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। এবং ২৪ অক্টোবর সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি একজন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা।
মানিক পশারীর মেয়ে জামাই ফারুক হোসেন জানান, সকাল ১০টায় উনি মারা গেছেন। দুপুর ১২টায় আমরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে এলে উনি আমাদের গার্ড অব অনারের কথা বলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দাঁড় করিয়ে রাখেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার শ্বশুর একজন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। একটি সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে কোনো বরফ, চা পাতা ছাড়া ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পরে গোপনে কোনোমতে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। আমরা কীভাবে লাশ দাফন করব, তার কোনো দায়িত্ব নেননি ইউএনও। লাশ দাফন নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত।’
জানা গিয়েছে, প্রশাসন মুখ ঘুরিয়ে নেয় কবর খোঁড়ার ব্যাপারে। বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জন্য একবার কবর খোঁড়া হলে সেখানে বাঁধা দেয় পাকিস্তানি দালাল রাজাকার গুলা। প্রশাসন থেকে সাহায্য চাইলেও কোনো সাড়া পায়নি।
পরে নিরুপায় হয়ে বোন আর মেয়ে মিলে রাতের অন্ধকারে মোবাইল ফোনের আলো জ্বেলে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃতদেহ দাফনের জন্য দ্বিতীয়বার কবর খোঁড়ে।
নারী হয়ে কবর খুড়লো জামাতের বাঁধায়, তারাই ইসলামের কথা বলে। ইসলামের পক্ষের দল। বজ্জাতের দল।
বিএনপি নাকি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল!? স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে টানাটানি করে বছরব্যাপী। কারা যেন বলেছিল মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ কে রক্ষা করতে বিএনপিকে ভোট দিতে?
