ঢাকা: মাটিতে দাঁড়িয়ে আত্মহত্যা? ছবিটা দেখেছে সারা দেশ! মাটিতে দাঁড়িয়ে গলায় রশি দিয়ে মানুষ আত্মহত্যা কীভাবে করে? একটা মিথ্যাকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।
বলছি, পুলক চ্যাটার্জির কথা। তিনি সম্ভবত খুন হয়েছেন।
বরিশাল নগরীর প্যারারা রোড এলাকায় দৈনিক সমকালের বরিশাল অফিস থেকে পত্রিকাটির সাবেক ব্যুরো প্রধান পুলক চ্যাটার্জীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এই সময় আবার লাশের পাশ থেকে তার (পুলক) নিজ হাতে লেখা পাঁচটি সুইসাইড নোট (চিরকুট) উদ্ধার করা হয়েছে।
এইসব দেশের মানুষ আর খায় না। গেলানোর চেষ্টা হচ্ছে, যেমন হয়েছে গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের ক্ষেত্রে।
বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সমকালের ব্যুরোপ্রধান সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জীকে সমকালের অফিসে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে, দুই পা মেঝেতে, হাঁটু বাঁকানো, শরীর প্রায় দাঁড়ানো। একে কি আত্মহত্যা বলা যায়?? বিচার কি এ দেশে আসলে হচ্ছে?
এখন এভাবেই চলবে- সাইলেন্ট কিলিং। ভয়নাই; আর ম্যাস কিলিং করবে বলে মনে হচ্ছে না। ম্যাস কিলিং এ একটা সমস্যা আছে। মিডিয়াগুলো হৈচৈ করে। কিন্তু এভাবে হলে সমস্যা কম।
কারণ হিন্দুরা এমনিতেই পাশের বাড়িতে কেউ মারা গেলে ভয়ে দরজা বন্ধ করে রাখে। একটা একটা করে করার এই পদ্ধতিটাই আপাতত কাজে দিচ্ছে।
কেউ কিচ্ছু বলবে না, গণহত্যা করলে তো বিপদ হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে চুপচাপ একটা একটা চলছে, কখনো একটা গোটা পরিবার।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় অফিসের ভেতর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলক চ্যাটার্জী তার স্ত্রী ও মেয়ে, ছোট ভাই দীপক চ্যাটার্জী, বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন, দৈনিক সমকালের বরিশাল ব্যুরোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সুমন চৌধুরী ও প্রশাসনের উদ্দেশ্যে পৃথক সুইসাইড নোট লিখে গেছেন।
তবে এইসব ভাঁওতাবাজি বোঝে মানুষ। বুঝেও কী করবে?
প্রশাসনের উদ্দেশ্যে সুইসাইড নোটে পুলক চ্যাটার্জির নাম উল্লেখ করে লেখা: আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমি শরীরের রোগ যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছিলাম না। সুস্থ থাকার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। ইন্ডিয়ার ভেলোরে পর্যন্ত ডাক্তার দেখিয়েছি। কিন্তু সুস্থ হতে পারিনি। অসুস্থতা আমাকে মানসিকভাবে পিছিয়ে দিচ্ছে। শরীরের যন্ত্রণাকালে কোথাও যেতে পারতাম না। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, কোনো প্রকার হয়রানি না করে আমার লাশ আমার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হোক।
শুক্রবার সন্ধ্যার পরে সমকাল বরিশাল অফিস থেকে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির মরদেহ উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
