ঢাকা: পরীমনি আর অশ্লীলতা সমার্থক হয়ে গেছে বাস্তবিকভাবেই। এমন ঘটনা আমরা আগেও দেখেছি এবং আবারো দেখলাম।
একের পর এক বিতর্কিতকাণ্ড ঘটাচ্ছেন ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি।
আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের অকারণে হেনস্থা করেছেন। তারপর আবার দেশের জাতীয় সংগীতের বিকৃত ব্যবহার করলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেয়ার পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন তিনি।
এ সময় তার সঙ্গে থাকা কালো পোশাক পরা ১১ জন বডিগার্ড আদালতে আসা বিচারপ্রার্থীদের ওপর অকারণে চড়াও হন। এমন পরিস্থিতিতে পরীমণির বডিগার্ডের আঘাতে মাথা ফেটে যাওয়ার অভিযোগ করেন সুজন চন্দ্র নামের এক বিচারপ্রার্থী।
আদালতে এইসব অশ্লীলতা করে পরে ফেসবুকেও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা শুরু করেন।
ওইদিনই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আপত্তিকর ও অশোভন একাধিক শব্দ ব্যবহার করে একটি স্ট্যাটাস দেন পরী। আর এমন বিতর্কিত স্ট্যাটাসের সঙ্গে জুড়ে দেন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত।
জাতীয় সংগীত অবমাননা ও সাংবাদিক হয়রানির অভিযোগে ক্ষমা চাইতে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এবং সব রকম অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৮ নভেম্বর) শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনি, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের ঠিকানায় এই নোটিশ পাঠানো হয়।
নোটিশটি পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার।
নোটিশে আগামি ৭ দিনের মধ্যে পরীমনিকে আদালত প্রাঙ্গণে সংঘটিত ঘটনার জন্য লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে।
আর ভবিষ্যতে সব ধরনের অশ্লীল কথা বা সংলাপ, হুমকি প্রদান, অশ্লীল অভিনয়, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি, অশ্লীল নগ্ন বা অর্ধনগ্ন নৃত্য—যা চলচ্চিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিওভিজ্যুয়াল চিত্র, স্থিরচিত্র, গ্রাফিকস বা অন্য কোনো উপায়ে ধারণকৃত ও প্রদর্শনযোগ্য এবং যার কোনো শৈল্পিক বা শিক্ষাগত মূল্য নেই—এসব থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
নোটিশে আগামি ৭ দিনের মধ্যে শোকজ নোটিশ প্রদানপূর্বক পরীমনির বিরুদ্ধে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
