ঢাকা: ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন মারা গেছেন। তিনি মারা গেছেন ভারতের কলকাতার একটি হাসপাতালে।

চট্টগ্রামের রাউজানের বাসিন্দা মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী।

আজ ১০ অক্টোবর ২০২৬ (শনিবার) সকাল ৭:১৫ মিনিটে কলকাতার রুবি জেনারেল হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি অসুস্থ ছিলেন বহুদিন ধরেই।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গত ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট হরিদাসপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন ইতিমধ্যে মৃতদেহ বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় শংসাপত্র (Certificate for Repatriation) জারি করেছে।

উপ-হাইকমিশনের প্রথম সচিব (কনস্যুলার) মুহাম্মদ জিল্লুর রহমান স্বাক্ষরিত এক পত্রে জানানো হয়, মরহুমের শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য তাঁর মরদেহ আকাশপথ বা সড়কপথে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

আইনি প্রক্রিয়া মেনে নিহত মাহফুজুল হায়দার চৌধুরীর পাসপোর্টটি বাতিল করে তাঁর নিকটাত্মীয় সোহানুর ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেছে মিশন কর্তৃপক্ষ।

সোহানুর ইসলামের জিম্মায় মরদেহটি বাংলাদেশে ফেরত আনার ব্যাপারে উপ-হাইকমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আপত্তি নেই বলে জানানো হয়েছে।

মরদেহটি দ্রুত ও নির্বিঘ্নে দেশে আনার জন্য সীমান্ত ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন।

আসলে রোটনের মৃত্যুর খবরে তাঁর সহযোদ্ধারা ভেঙে পড়েছেন।

তাঁর চলে যাওয়ার সংবাদটি শুধু একজন সাবেক ছাত্রনেতার মৃত্যুসংবাদ নয়; এটি রাজনৈতিক বিবেকের সামনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া এক কঠিন প্রশ্ন।

সংগ্রামী, আপসহীন এবং দলের দুঃসময়ে নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়া একজন নেতার রাজনৈতিক জীবনের পরিণতি কি এমনই হওয়ার কথা? প্রশ্ন করছেন অনেকেই।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে রোটনকে কী পরিমাণ নির্যাতন, হামলা-মামলা ও অমানবিক অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে, তা তাঁর সহযোদ্ধারা জানেন।

১/১১-এর কঠিন সময়েও তিনি রাজপথে ছিলেন, দলের জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছেন এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও আদর্শের প্রশ্নে আপস করেননি কখনো।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *