বান্দরবান: আসলে বান্দরবানে জন্ম নেয়াটাই যেনো পাপ। এটা আমি বলছি না-বলছে বান্দরবানের ভুক্তভোগী মানুষগুলো।
বছরের পর বছর সরকার পরিবর্তন হলেও বান্দরবানের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। হাম মারাত্মক আকার নিয়েছে। ইউনূস দেশটাকে খুবলে খেয়েছে, শিশু হত্যাকারীর কোনো বিচার হয় না এই দেশে।
এই অবুঝ শিশুগুলো মারা যাচ্ছে, অথচ কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি এখন অবধি।
এক ভুক্তভোগী লিখেছেন- “বাচ্চার হার্টবিট লেভেল যখন ৭৪ এ চলে আসছিলো তখন বাচ্চার অবস্থা অনেক ক্রিটিকাল হয়ে গেছে। হামের ক্ষেত্রে (হার্টবিট লেভেল ৯২) এর নিচে আসলে সেটা ক্রিটিকাল বিবেচনা করা হয়।
গতকালই আর্জেন্ট তার দরকার ছিলো HDU support (হাই ফ্লো অক্সিজেন সাপোর্ট), অথচ সদরে হাই অক্সিজেন সাপোর্টেড কোনো রুম,কেবিন বা শাখা নাই, বাচ্চার অক্সিজেন লেভেল যখন ৫/৬ লিটার দরকার!!
তখন সদর হাস্পাতালে ০.৫ লিটার অক্সিজেন সাপোর্ট দিয়ে আমতা আমতা করে চিকিৎসা চালিয়ে যায়।
যেনো কর্তৃপক্ষ কিছু দেখেও দেখেনা, বুঝেও বুঝেনা”।
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি উপজেলা রুমা ও আলীকদমে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে।
চলতি বছরে দুই উপজেলায় হামের উপসর্গে অন্তত ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এবং একই সময়ে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী।
অর্থের অভাবে আক্রান্ত অনেক রোগীকে সময়মতো হাসপাতালে নিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে না।
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ খুমী স্টুডেন্টস কাউন্সিলের (বিকেএসসি) উদ্যোগে আক্রান্ত রোগীদের বান্দরবান সদর হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কার্যক্রম চলছে।
আক্রান্ত শিশুদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বজনরা।
এ অবস্থায় অসুস্থ শিশু ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলোর প্রতি আর্থিক সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ দিনে রুমা উপজেলার দুর্গম লেতং খুমী পাড়ায় হামের উপসর্গে আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এর আগে আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা এলাকায় একই ধরনের উপসর্গে পাঁচ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। বর্তমানে রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৩ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ইউনিসেফের টিকাদান কর্মী উ থোয়াই সিং মারমা জানান, এলাকায় গিয়ে প্রায় প্রতিটি ঘরেই শিশুদের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। অনেক পরিবার আধুনিক চিকিৎসার পরিবর্তে ভেষজ ও গাছ-গাছড়ার চিকিৎসার ওপর নির্ভর করছে।
তিনি জানান, এক থেকে ছয় বছর বয়সী ৩০-৩৫ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে এবং সংকটাপন্ন কয়েকজন শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
