ব্রাহ্মণবাড়িয়া: মারাত্মক বিদ্যুৎ সংকটের মুখে বাংলাদেশ। চিকিৎসা পর্যন্ত চলছে টর্চের আলোতে! ভাবতে পারেন?

গত কুড়ি বছরে এমন বিভ্রাট দেখেনি দেশ। আর কত কষ্ট ?

স্বাভাবিক ভাবেই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন বিঘ্নিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যেখানে হাসপাতালে টর্চ হাতে রোগীর সেবা করতে হচ্ছে, রোগী দেখতে হচ্ছে ডাক্তার, নার্সদের!

এরকম ভয়ঙ্কর দশা কবে‌ দেখেছিলো বাংলাদেশ?

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে লোডশেডিংয়ের কারণে চিকিৎসাসেবা দিতে পারছেন না ডাক্তাররা।

হাসপাতালের দুটি জেনারেটরের মধ্যে একটি নষ্ট। আরেকটি জ্বালানির অজুহাতে চালানো হয় না।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত আড়াইটার দিকে হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগসহ কয়েকটি তলায় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে চিকিৎসক ও নার্সদের মোবাইল ফোনের টর্চের আলো ব্যবহার করে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। কোন দেশে আছি বাবা?

এই সময় ইমার্জেন্সি বিভাগে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. নাজমুল হক রনিকে টর্চের আলোয় রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে দেখা যায়।

মোবাইলের টর্চের আলো দিয়ে রোগীদের টিকিট কাটা হচ্ছে কোনোরকমে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে ইমার্জেন্সি ছাড়াও হাসপাতালের নিচতলা, দ্বিতীয় ও চতুর্থ তলায় বিদ্যুৎ ছিল না। এতে তীব্র গরমের মধ্যে ওয়ার্ড ও বারান্দায় থাকা রোগীরা আরো অসুস্থ হয়ে পড়েন। চারদিকে অন্ধকার।

প্রশ্ন হলো, একটি হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে একজন চিকিৎসককে কেন মোবাইলের টর্চের আলোয় রোগী দেখতে হবে?

এখন শুধু লোডশেডিংয়ের সময় সাময়িকভাবে জেনারেটর চালানোর ব্যবস্থা নয়, হাসপাতালে কেন বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, সেই মূল সমস্যাটি দ্রুত চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধান করা জরুরি।

হাসপাতালের তথ্যসূত্রে জানা গেছে, রাত ১টা থেকে ২টার পর প্রায়ই লোডশেডিং দেওয়া হয়।

বিদ্যুৎ না থাকলে শুধু রোগীদের গরমে কষ্ট হয় না, ইমার্জেন্সি চিকিৎসা, অক্সিজেন, নেবুলাইজেশনসহ বিভিন্ন জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

সমস্যা একটা না, হাজারটা আছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। বর্তমানে নিচতলা থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত প্রায় ৫০০-৬০০ রোগী ভর্তি রয়েছে।

লোডশেডিংয়ের কারণে হাসপাতালের মর্গে মরদেহের পোস্টমর্টেম সঠিক সময়ে করা সম্ভব হচ্ছে না।

হিমাগারের চারটি ফ্রিজে অ//জ্ঞাত লা//শ ও বিভিন্ন মর//দেহ রাখা হয়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে মর//দেহ পঁ//চে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে।

হাসপাতালে বিদ্যুৎ না থাকা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে রোগীর চিকিৎসা এবং জীবনের ওপর।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *