ঢাকা: শুভ “প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দানোৎসব” উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ।
কঠিন চীবর দান হলো বৌদ্ধ ধর্মের একটি ধর্মীয় আচার বা উৎসব, যা সাধারণত বাংলা চন্দ্রপঞ্জিকা অনুযায়ী প্রবারণা পূর্ণিমা পালনের এক মাসের মধ্যে সুবিধাজনক সময়ে পালন করা হয়।
এই অনুষ্ঠানে মূলত বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ত্রি-চীবর নামে বিশেষ পোশাক দান করা হয়। ধর্মাবলম্বীরা পূণ্যের আশায় প্রতি বছর এভাবে চীবরসহ ভিক্ষুদের অন্যান্য আনুষঙ্গিক সামগ্রী দান করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ” বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম উৎসব “শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান” উপলক্ষে আমি সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
মহামতি গৌতম বুদ্ধের শান্তির বাণী মানবজাতির কল্যাণ ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। তাঁর আদর্শ মানবিকতায় পরিপূর্ণ ও ত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল।
বুদ্ধের অহিংস বাণী ও জীবপ্রেম আজও বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। ত্যাগ, সংযম, নিয়মানুবর্তিতা আর কঠোর ধ্যান সাধনার মাধ্যমে উদ্যাপিত “শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দানোৎসব” ভক্তদের বুদ্ধের প্রকৃত অনুসারী হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আবহমান কাল ধরে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সবসময় “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার” এ আপ্তবাক্য ধারণ করে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ যাতে নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করতে পারে, এই অধিকার নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।
কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের বৌদ্ধ সহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নজিরবিহীন সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস, হামলা, লুটপাট, ঘরবাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। এই নিপীড়ন আমাদের হাজার বছরের সামাজিক সম্প্রীতির ওপর এক চরম আঘাত।
আজকের এই উৎসবের দিনে আমাদের অঙ্গীকার, সকল অন্যায় ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলে দেশ থেকে চিরতরে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি নির্মূল করা হবে।
আসুন, প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দানোৎসবের এই পবিত্র মুহূর্তে আমরা সবাই মিলে বর্তমান দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে একটি নিরাপদ, শান্তিময় ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার শপথ গ্রহণ করি।
আমি “শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দানোৎসব”-এর সার্বিক সফলতা কামনা করছি”।
