ঢাকা: আদ দ্বীন হাসপাতালে অনেক শিশুর মৃত্যু। যাদের বয়স ছিল ১/২ দিন। শিশুদের মৃত্যুর পর এখন অনেকেই বলছেন তাঁরাও অনেক কারণে এই হাসপাতালে ভুক্তভোগী হয়েছেন।
শিশুগুলো মারা গিয়েছে তারপরেই আরো কথা বেরোচ্ছে, তার আগে হয়তো তারা বলতেই সাহস পাননি।
এতগুলো বাচ্চা মারা গিয়েছে, এই দায়ে এই হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলসহ ডিউটিরত সবার এবং কর্তৃপক্ষের ফৌজদারী শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার।
অবশ্য জন্ম যে দেশে আজন্ম পাপ। সেই দেশে এসব আশা করে লাভ নেই।
দূষিত রাজনীতি আর দূষিত আমলাতন্ত্র হাসপাতালের পাশে ঠিকই দাঁড়িয়ে যাবে। আগেও তাই হয়েছে। কেয়ামত পর্যন্ত তাই হবে। এর কোনো নড়চড় হবে না।
যার বাচ্চা গেছে, তাঁরাই সারাজীবন বুক চাপড়ে বেড়াবে।
সাংবাদিক আনিস আলমগীর বলেছেন, ‘ধর্মীয় খোলসধারী এই হাসপাতালগুলো মূলত এক একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণার কারখানা’।
এখন ছয় শিশুর মৃত্যুর কোথায় বিচার হবে, সেটা দেরি করে ক্যান্টিন পরিচালনা চলছে।
ঢাকার মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং বেইলি রোডের মনোয়ারা হাসপাতালে যৌথ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে রবিবার (৩১ মে) বিকেলে অভিযান চালানো হয়।
ফ্রিজে নাকি বাসি মিষ্টি, খারাপ খাবার এইসব পাওয়া গেছে।
আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ক্যানটিনের ফ্রিজে লেবেলবিহীন ও জমাটবদ্ধ বাসি মিষ্টি রাখা, রান্নাঘরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, বিভিন্ন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাব এবং হাসপাতালের রেফ্রিজারেটরে তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া গেছে।
তা এইগুলো তো বরাবর পরিচালনার কথা, তখন না হয়ে এখন কি শিশুমৃত্যুর বিষয়টি গৌণ করার চেষ্টা হচ্ছে? নাকি বোঝানো হচ্ছে যে ‘তোমাদের তো অনেক দোষ বেরোচ্ছে, টাকা বাড়িয়ে দাও’!
জানা গিয়েছে, এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনে ১ লাখ টাকা এবং নিরাপদ খাদ্য আইনে ২ লাখ টাকাসহ মোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে তা আদায় করা হয়।
জরিমানার পাশাপাশি হাসপাতালের সামগ্রিক পরিবেশের উন্নয়ন, পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রাখা, রেফ্রিজারেটরে তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন, ক্যানটিনের মানোন্নয়ন এবং বেকারি স্থানান্তরের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে সতর্ক করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়।
