ঢাকা: উত্তরা থেকে নিখোঁজের পর তুরাগ নদী থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সুরির (২৮) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপকে (২০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আদালত তাঁর ৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করে। পুলিশ কিন্তু ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলো। কারণ ইতিমধ্যে দীপের বহু কথায় অসঙ্গতি খুঁজে পাওয়া গেছে। প্রকৃত ঘটনা কী ঘটেছিলো তা জানতে রিমান্ডে বেশিদিন লাগতেই পারে!
এদিকে, ঘটনার রাতে তাহসিফের সাথে এক রহস্যময়ী তরুণীর উপস্থিতির নতুন একটি ভিডিও ফুটেজ সামনে আসায় এই হত্যাকাণ্ড ভিন্ন মোড় নিয়েছে।
তাহসিফের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে ধূম্রজাল কাটছেই না। তদন্তকারীদের মতে, মৃত্যুর আগের রাতের কয়েক ঘণ্টাই এখন ঘটনার আসল রহস্য উদ্ঘাটনের প্রধান সূত্র।
এই ঘটনায় নানান জটিল প্রশ্ন ও তথ্য সামনে আসছে।
উত্তরার একটি রেস্টুরেন্ট ও বারের সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফ ও তাঁর বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সঙ্গে রহস্যময় এক নারীকে দেখা গেছে।
গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে তাঁরা তিনজন একসঙ্গে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করেন এবং ১ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট পর রাত ১১টা ৫১ মিনিটে একসঙ্গে বের হন।
রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার পর ওই নারী কোথায় গেলেন এবং তাহসিফ ও দীপ কীভাবে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় পৌঁছালেন—তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
রেস্টুরেন্ট থেকে বের হবার সময় ওই তরুণীর হাতে একটি সাদা পলিথিন ব্যাগ দেখা যায়।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই রহস্যময়ী তরুণীর জবানবন্দি মামলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওই রাতে তিনি কতক্ষণ তাহসিফ ও দ্বীপের সাথে ছিলেন এবং মধ্যরাতের পর তাঁদের মধ্যে কী ঘটেছিল, তা উদ্ঘাটন করতে পুলিশ ঐ তরুণীকে খুঁজছে।
নিহত তাহসিফের বাবা বাদী হয়ে উত্তরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করার পর পুলিশ দীপকে গ্রেফতার করে। শুরু থেকেই তাঁর বাবার অভিযোগ ছিল, তাহসিফকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, এর আগে ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ রিভার পুলিশ এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কর্মকর্তারা দীপকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পুলিশ জানায়, সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দীপের দেওয়া বক্তব্য ছিল অসঙ্গতিপূর্ণ এবং তিনি অনেক তথ্য গোপন করার চেষ্টা করছিলেন।
মামলা দায়েরের পর তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক ৪ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
হত্যাকাণ্ডের শিকার তাহসিফের মরদেহের ময়নাতদন্ত করেছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের দুই অভিজ্ঞ ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট। তবে এখন পর্যন্ত ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করায় তদন্ত প্রক্রিয়া কিছুটা জটিল আকার ধারণ করেছে।
মামলা দায়েরের ফলে এখন চিকিৎসকদের ওপর থেকে চাপ কমবে এবং তাঁরা দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি পানিতে ডুবিয়ে হত্যা নাকি ডাঙ্গায় হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে, তা ফরেনসিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
