ঢাকা: শান্তিতে শুঁটকি যে খাবে বাঙালি, সেটাতেও ভয় হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এই দেশের নদ-নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে শিল্প, বাণিজ্য, জীবন, জীবিকা।
শহর ও গ্রাম দুই এলাকার মানুষের কাছে নদীর মাছের চাহিদা বেশি। তেমনি বাঙালির প্রিয় হচ্ছে শুঁটকি।
কিন্তু কোন জিনিসটা নিশ্চিন্তে খাবেন? সময়ের সঙ্গে দেশে বাড়ছে প্লাস্টিক দূষণ। অপচনশীল প্লাস্টিক বর্জ্য নদীর তলদেশে জমা হয়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক হিসেবে পরিবেশের পাশাপাশি জলজ প্রাণীর জন্যও হুমকি তৈরি করছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কয়েকটি গবেষণায় দেশের বিভিন্ন স্থানের নদী ও জলাশয়ের তলদেশের কাদামাটি এবং মাছের অন্ত্র, ফুলকা ও মাংসপেশিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
১৫০টি মাছের মধ্যে পাঁচ প্রজাতির মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মাছগুলো হলো—কই, বাটা, মেনি (নান্দিনা), গুলশা টেংরা ও পুঁটি।
এবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় শুঁটকিতে পাওয়া গেলো ৯ ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক!
শুঁটকিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায়। গবেষণায় শুঁটকির নমুনায় ৯ ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
এই মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো প্লাস্টিকের অতি ক্ষুদ্র কণা, যা পরিবেশ, পানি ও খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
গবেষকেরা চার এলাকার শুঁটকি তৈরির স্থান বা খোলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন।
মোট ২৪টি পরীক্ষার নমুনার প্রত্যেকটিতে ১০ গ্রাম শুকনা অংশ পরীক্ষা করা হয়।
সবচেয়ে বেশি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে দুবলার চরের লইট্টা শুঁটকিতে, প্রতি গ্রামে ১. ৩০টি।
আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কণা কক্সবাজারের বাগদা চিংড়িতে পাওয়া গেছে, ১. ২৫টি।
সুন্দরবনের পোয়া শুঁটকিতে ০. ৯০টি,
বাগদা চিংড়িতে ০. ৮০টি এবং ছুরিতে ০.৬৫টি কণা পাওয়া গেছে।
কক্সবাজারের পোয়া শুঁটকিতে প্রতি গ্রামে শূন্য দশমিক ৭০টি ও ছুরিতে শূন্য দশমিক ৫০টি কণা মিলেছে।
টেকনাফের লইট্টায় ০. ৭৫টি,
ফাইস্যায় ০. ৭০টি এবং হরিণা চিংড়িতে ০.২৫টি কণা পাওয়া গেছে।
কুয়াকাটার ফাইস্যায় ০. ৬৫টি ও হরিণা চিংড়িতে ০। ৫০টি কণা মিলেছে।
এলাকাভিত্তিক গড়ে সবচেয়ে বেশি কণা পাওয়া গেছে সুন্দরবনে, প্রতি গ্রামে শূন্য দশমিক ৯১টি।
কক্সবাজারে শূন্য দশমিক ৮২টি, কুয়াকাটায় শূন্য দশমিক ৫৮টি এবং টেকনাফে শূন্য দশমিক ৫৭টি।
তবে গবেষকরা জানান, কোনো এলাকার শুঁটকি নিশ্চিতভাবে বেশি দূষিত, এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না।
মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ থেকে পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আজম খান।
তাঁর মতে, প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে উপকূলীয় পানি ও জলাশয়ে যত্রতত্র প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা জরুরি।
গবেষণায় শুঁটকির নমুনাগুলোতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিশ্চিত হলেও মানুষের স্বাস্থ্যে এর নির্দিষ্ট প্রভাব কী, তা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
